logo

ভিজিএফের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর

ভিজিএফের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধর

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

এদিকে আজ ওই ইউনিয়ন পরিষদের সব ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিদের জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৮৩ হাজার ৩৭০ জনের জন্য ৮৩ টন ৩৭০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

এর মধ্যে ধরনীবাড়ি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৮০০ সুবিধাভোগী এই সহায়তা পাবেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউপি সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের তালিকা যাচাই-বাছাই করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সকালে পরিষদে এসে তার অনুসারী ও পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করেন।

দুপুরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন পরিষদে এসে জানতে পারেন যে, তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে তারা চেয়ারম্যানের কাছে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে চেয়ারম্যান এরশাদুল হক আহত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবার সমন্বয়ে দুস্থদের তালিকা তৈরির কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের নিয়ে আগেই তালিকা তৈরি করেন। এতে বঞ্চিত জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ওবায়দুল হক বলেন, চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তিনি চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে বলেন, স্বচ্ছ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ায় ইউপি সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির কথা শুনেছি। আজ ওই ইউনিয়ন পরিষদের সব ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে আমার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।