logo
Advertisement

ব্যাটারি চুরির বিরোধে যুবককে হাতুড়িপেটা, অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
মানিকগঞ্জ, ঢাকা
ব্যাটারি চুরির বিরোধে যুবককে হাতুড়িপেটা, অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুর
মানিকগঞ্জে যুবককে হাতুড়িপেটার পর মৃত্যুর গুঞ্জনে অভিযুক্তদের বাড়ি ভাঙচুরের সময় স্থানীয়দের ভিড়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মানিকগঞ্জের ঘিওরে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনা নিয়ে বিরোধে মাসুম মিয়া (৩০) নামের এক যুবককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ঘটনার জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মাসুম ওই এলাকার মৃত সন্তোষ মিয়ার ছেলে; তিনি পেশায় একজন দিনমজুর।

পুলিশ জানায়, পাশের শিবালয় উপজেলার এক ব্যক্তির অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনা নিয়ে মাসুমের সঙ্গে প্রতিবেশী রানা মিয়ার বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে মাসুমকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রানা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে বাড়ির সামনে মাসুমকে একা পেয়ে রানা মিয়া, তার ভাই রনি মিয়া ও মো. রায়হান তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে মাসুমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হাতুড়ি দিয়ে তাকে বেদম মারধর করা হয়। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা আহত মাসুমকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে, হামলার পর এলাকায় মাসুমের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে বিক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যক্তি রানা মিয়া ও রনি মিয়ার বাড়িতে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।

বড়টিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মজনু মিয়া বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাটারি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হামলা হলেও এর পেছনে অন্য কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রানা মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় রানা মিয়া, তার মা, বাবা ও বোনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।