ঈদগাহের মিনার নির্মাণে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মসজিদের ঈদগাহের মিনার নির্মাণকাজে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগমের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, ২০২৬ সালের অর্থ বছরে বাজেট হিসাবে উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ফকদনপুর মাস্টারপাড়া ঈদগাহের মিনার কাজের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয় পিআইও অফিস। কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগমকে। তিনি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৭০ হাজার টাকার কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদগাহের মিনার নির্মাণে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় পিআইও অফিস। কিন্তু মাত্র ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয় ঈদগাহ পরিচালনা কমিটিকে। এ টাকায় অর্ধেক কাজ হয়। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ হয়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হক বলেন, প্রথমে শুনেছি ৭০ হাজার টাকা বাজেট। পরে শুনি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে তো পুরো কাজটা সম্পূর্ণ হতো। যে দুর্নীতি করেছে, তার শাস্তি হোক।
বেলাল হোসেন নামে আরেকজন বলেন, এটা আল্লাহর রাস্তার কাজ। এখানে ইউপি সদস্য কীভাবে অর্ধেকের বেশি টাকা আত্মাসাৎ করে। আমরা চাই ইউপি সদস্যের শাস্তি হোক।
ঈদগাহ ময়দানের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, এই ঈদগাহ ময়দানের মিনার নির্মাণের জন্য ৭০ হাজার টাকা আামাদেরকে দিয়েছে ইউপি সদস্য রিনা বেগম। আমরা তো ভাবছিলাম এই টাকায় বাজেট। তাই কাজ শুরু করি। অর্ধেক কাজেই টাকা শেষ। এখন আপনার মাধ্যমে শুনছি, বাজেট ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এই টাকা পেলে কাজটা ভালোভাবে করা যেত।’
অভিযোগের কথা স্বীকার করে ইউপি সদস্য রিনা বেগম বলেন, আমি ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পিআইও অফিস থেকে ঈদগাহের মিনার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পেয়েছি। কিন্তু স্থানীয় কিছু নেতাকে ১ লাখ দিতে হয়েছে। আমি কিছু টাকা রাখছি। বাকি ৭০ হাজার টাকা ঈদগাহ মিনার কমিটিকে দিছি।
রহিমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান হান্নু বলেন, আমার কাছে এর মধ্যে মিনার কমিটির সভাপতি ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। ইউপি সদস্য রিনা বেগমের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পুরো টাকাটা মিনার কমিটিকে দিয়ে বাকি কাজটা সম্পূর্ণ করব।
ঠাকুরগাঁও পিআইও কর্মকর্তা নূর নবী বলেন, আমরা যে টাকা কাজের জন্য বরাদ্দ দিয়েছি, তার অর্ধেক কাজ হয়েছে। বাকি কাজটার জন্য ইউপি সদস্য আমাদের কাছে সময় চেয়েছেন। সেই সময় অনুযায়ী কাজ সম্পূর্ণ না হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অভিযোগ তদন্তে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






