logo

রাঙামাটিতে জ্বালানি সংকটে বন্ধ যাত্রীবাহী স্পিডবোট

রাঙামাটিতে জ্বালানি সংকটে বন্ধ যাত্রীবাহী স্পিডবোট

রাঙামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ নৌপথে যোগাযোগে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল থেকে জ্বালানি সংকটের কারণে রাঙামাটি-লংগদু ও বাঘাইছড়ি রুটে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের চারটি জ্বালানি পাম্পের মধ্যে মাত্র দুটি পাম্পে সীমিত পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

দ্রুততম যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে স্পিডবোট সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পাম্পগুলোতে অকটেন না পাওয়ায় চালকেরা এ সেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা জানান, ডিজেলের সংকট অব্যাহত থাকলে কাপ্তাই হ্রদে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে হ্রদের প্রায় ১০টি রুটে ৩০টি লঞ্চ চলাচল করে। এসব লঞ্চ চালাতে দৈনিক প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন।

ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মৌসুমি পণ্য পরিবহনকারী মো. নাছির উদ্দিন বলেন, আগে বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি নৌকায় তরমুজ, আনারস, কলাসহ বিভিন্ন ফল শহরের সমতাঘাট, ট্রাক টার্মিনাল ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে আনা হতো। হাটের দিনে এ সংখ্যা দ্বিগুণ হতো। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে এখন অনেকেই পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না। এতে কৃষক ও নৌকার মালিক-উভয়েই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্পিডবোট ঘাটের লাইনম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি স্পিডবোট বিভিন্ন রুটে চলাচল করত। বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে সেগুলো বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাম্প থেকে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে, তা স্পিডবোট চালানোর জন্য যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা, রাঙামাটি জোনের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, বর্তমানে যে জ্বালানি মজুত আছে, তা দিয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত লঞ্চ চালানো সম্ভব। নতুন করে জ্বালানি না পেলে বুধবার থেকে উপজেলাগুলোর সঙ্গে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, জ্বালানির অভাবে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হবে না। তবে স্পিডবোটে বেশি জ্বালানি লাগে বলে সেগুলোর ক্ষেত্রে রেশনিং করা হচ্ছে।