logo

অপরিচিত কাউকে দেখলে তেড়ে ওঠে ২৮ মণের ‘বাহুবলী’

অপরিচিত কাউকে দেখলে তেড়ে ওঠে ২৮ মণের ‘বাহুবলী’
সাদা-কালো রঙের ‘বাহুবলী’। ছবি : এশিয়া পোস্ট

কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে নড়াইলের পশুর খামারগুলো। আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই নাম-‘বাহুবলী’। বিশাল দেহাকৃতি আর ব্যতিক্রমী গড়নের কারণে কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

খামারি রিপন মিনার খামারে বেড়ে ওঠা সাদা-কালো রঙের ‘বাহুবলী’র ওজন প্রায় ২৮ মণ। প্রায় ১৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট উচ্চতার এই বিশাল আকৃতির ষাঁড়টি স্থানীয়দের কাছে এখন যেন আলাদা আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু এক নজর ‘বাহুবলী’কে দেখতে ছুটে আসছেন।

দেখতে বিশাল হলেও সাধারণ সময়ে গরুটি বেশ শান্ত স্বভাবের। তবে অপরিচিত কাউকে দেখলে হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে ওঠে। খামারির ভাষ্য, ‘বাহুবলী’কে খামার থেকে বাইরে বের করতে ১০ থেকে ১২ জন মানুষের সহায়তা লাগে। তাই আগে থেকেই লোকজন প্রস্তুত রাখতে হয়।

ঢাকায় হোটেল ব্যবসার পাশাপাশি শখের বসে গরুর খামার গড়ে তোলেন উদ্যোক্তা রিপন মিনা। ২০১৮ সালে কয়েকটি গরু দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তার খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২২টি ষাঁড়। তবে সব ষাঁড়ের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘বাহুবলী’।

খামারি রিপন মিনা জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করেই গরুটিকে বড় করা হয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ ঘাস, খড়, ভুসি, খৈল ও ভুট্টা খাওয়ানো হয়। কোনো ধরনের ক্ষতিকর মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি তার।

তিনি বলেন, বাহুবলী শুধু আমার খামারের গরু না, এখন পুরো এলাকার পরিচিত নাম হয়ে গেছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ছবি তোলে, ভিডিও করে নিয়ে যায়।

খামারের পরিচর্যাকারীরা জানান, গরুটির জন্য আলাদা নজরদারি রাখা হয়। নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বিশেষ যত্নের মাধ্যমে তাকে প্রস্তুত করা হয়েছে আসন্ন কোরবানির হাটের জন্য।

খামারির আশা, এবারের ঈদ বাজারে ‘বাহুবলী’র দাম উঠতে পারে প্রায় ১০ লাখ টাকা। বিশাল গড়ন ও আকর্ষণীয় সৌন্দর্যের কারণে ইতোমধ্যেই কয়েকজন ক্রেতা আগ্রহ দেখিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নড়াইলে এবার মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪ হাজার ৮৭৪টি ষাঁড়, ৬৩৯টি বলদ, ৫ হাজার ১৪১টি গাভি, ২৪ হাজার ৭৮৮টি ছাগল এবং ৫৫টি ভেড়া।

জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। সে হিসাবে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করেও প্রায় ৫ হাজার ৭৬৪টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, কালিয়া উপজেলার খড়রিয়া গ্রামের রাহুল অ্যান্ড রিয়া অ্যাগ্রো খামারে প্রায় ১১০০ কেজি ওজনের একটি বড় ষাঁড় রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। খামারটির কার্যক্রম শুরু থেকেই প্রাণিসম্পদ বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে এবং খামারিকে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক খামারি বড় গরু পালনে আগ্রহ দেখান না। তারপরও কিছু উদ্যোক্তা ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে বড় আকৃতির গরু প্রস্তুত করছেন, যা স্থানীয় বাজারে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

জেলার ছয়টি স্থায়ী পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির পশু যাতে সুস্থ ও নিরাপদ থাকে, সে জন্য প্রতিটি হাটে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করছি, এবারের ঈদে খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্য দাম পাবেন।