ঘুমন্ত গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, ‘মরার ভান করে’ প্রাণে বাঁচল শিশু

ভোলায় নিজ বসতঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার ৮ বছরের শিশুসন্তান নিজের বুদ্ধিমত্তায় ‘মারা যাওয়ার ভান’ করে প্রাণে বেঁচে যায়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিবপুর গ্রামের শরীফ সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ নাছিমা বেগম (৪০) একই এলাকার দুবাই প্রবাসী মো. আল আমিনের স্ত্রী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের সন্তান মো. আবির (৮)।
এ ঘটনায় মো. জিহাদ (২২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক জিহাদ ওই এলাকার মো. জামাল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে নাছিমা বেগম ও তার ৮ বছরের সন্তান বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থায় নাছিমা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। ওই সময় শিশুটিকেও আঘাত করে আহত করা হয়। ভোরের দিকে শিশুর চিৎকারের স্থানীয়রা ছুটে এসে বসতঘরে প্রবেশ করে নাছিমা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। এ সময় স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত শিশুর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, দুর্বৃত্তরা রাতে ঘরে ঢুকে ওই নারীকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং শিশুটিকেও আঘাত করে। তার শরীরজুড়ে ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই সময় শিশুটি মারা যাওয়ার ভান করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এরপর ভোরের দিকে সে বাইরে এসে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাড়িঘর সংস্কারের জন্য নাছিমা বেগম একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঘটনার পর সেই টাকা ঘরে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ওই টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছে। আহত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মো. জিহাদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা আটক জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।