নোয়াখালীতে প্রবাসীর বিয়ে বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৮

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ময়লা ফেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে দুবাইপ্রবাসী এক যুবকের বিয়ের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের আটজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দুবাইপ্রবাসী রাজু হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হামলাকারীরা বিয়ের গেট ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করেছে এবং ঘরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবার রাজুর বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার দুপুরে বাড়ির আশপাশে ময়লা ফেলা নিয়ে একই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে বিয়ের বাড়ির লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। কিছুক্ষণ পর তারা বাড়ির সামনে জড়ো হন বলে অভিযোগ পরিবারের। এ সময় বিয়ের বাড়ির লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত দিয়ে পুলিশ চলে যায়। এরপর বিকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন দুবাইপ্রবাসী রাজু হোসেনের বাবা আবদুল হক মাস্টার (৭০), মা ফেরদৌসী বেগম (৫৫), ছোট ভাই আজাদ হোসেন (২০), বড় বোন সুমি (২৮), শারমিন (২৬), ভাগনে রাফসান (৮), ভাগনি আয়েশা (৪) ও লিজা (২) রয়েছেন। আহতদের মধ্যে রাজুর বাবা, মা, ভাই ও দুই বোনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারধর ও কুপিয়ে আহত করে। এ সময় বিয়ের গেট ও প্যান্ডেল ভাঙচুর করা হয়। ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
দুবাইপ্রবাসী রাজু হোসেন বলেন, হামলাকারীরা তার মা-বাবা, ভাই-বোন ও ভাগনে-ভাগনিদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করার পর তাদের হাসপাতালে যেতে বাধা দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের বিচার চাই।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার বলেন, সোমবার রাত আটটার দিকে গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারী ও দুই পুরুষকে আন্তবিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আরেকজনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত বলে জানান তিনি।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির মধ্যে ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


