logo

ধামরাইয়ে ২৩৪ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

ধামরাইয়ে ২৩৪ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা, প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে
প্রতিমা তৈরি শেষ, এখন চলছে রঙের শেষ আঁচড়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ঢাকার ধামরাইয়ে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ত সময় পার করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপেই এখন কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে। কোথাও প্রতিমায় চলছে রঙের শেষ আঁচড়, কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। কারিগরদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তার প্রস্তুতি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ। কোথাও দেবী দুর্গার প্রতিমায় তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন শিল্পীরা, কোথাও মণ্ডপ সাজাতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

এবার ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৩৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় প্রতিমা নির্মাণের শেষ ধাপের কাজ সারতে ব্যস্ত কারিগরেরা। মাটির অবয়ব তৈরির পর দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশসহ বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিমায় রং ও কারুকাজ করছেন শিল্পীরা।

ধামরাইয়ের গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরবাড়িতে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শ্রমিক স্বপন পাল। কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, চার দিন আগে আমাদের মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে রং করার কাজ শুরু করেছি।

তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক বাড়েনি বলে জানিয়েছেন কারিগরেরা। ধামরাই পৌরসভা এলাকার একটি মণ্ডপে কাজ করা শ্রমিক শ্যামল পাল বলেন, রঙের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাজের মূল্য সেই হারে পাওয়া যায় না।

এদিকে দুর্গাপূজার আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে ধামরাইয়ে মন্দিরগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধামরাই উপজেলা মন্দির কমিটির সদস্যসচিব রণজিৎ পাল বলেন, প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবক দল থাকবে।

পূজার সময় শব্দযন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আশপাশের মানুষের ধর্মীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, বিশেষ করে নামাজ ও আজানের সময় সব পূজামণ্ডপে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত রাখতে হবে, যাতে আশপাশের কারও অসুবিধা না হয়। সাধারণত নামাজ ও আজানের সময় শব্দযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। এবারও সেটি চালু থাকবে। এ বিষয়ে সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে।