logo

বাবার একটি ভোট ও শিশু মাজহারুলের সারা জীবনের কান্না

বাবার একটি ভোট ও শিশু মাজহারুলের সারা জীবনের কান্না

ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ওসমান গনি সরদার। অফিস থেকে ছুটি নেন বাড়ি ফিরবেন বলে। এই ছুটির উদ্দেশ্য পরিবার ছিল না। তিনি ছুটি নেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য। কিন্তু ভোট দিয়ে তার আর কর্মস্থলে ফেরা হয়নি। থাকা হয়নি পরিবারের সঙ্গেও।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় প্রতিপক্ষের হামলায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ওসমান গনি। তার এই বিদায়ে দুর্বিষহ জীবন নেমে এসেছে পরিবারের সদস্যদের; যাদের চোখে এখন কেবলই বেদনার জল। যখনই মনে পড়ছে বাবা, বাবা ডাকে কান্নার সঙ্গে চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে তিন বছরেরে শিশু মাজহারুলের।

ওসমান গনির বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়াপাড়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আহাজারি শুরু করেন তার বৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগম। সন্তানের কবর ছুঁয়ে শুরু করেন কান্না। কখনো কবর জড়িয়ে ধরছেন, কখনো মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন।

ওসমানের গনির স্ত্রী সোহানা আক্তার এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার স্বামী কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ভোট দিতে বাড়িতে এসেছিলেন। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

বড় ভাই এনামুল কবির বলেন, আমার ভাই ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা। সে ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালাত। এখন আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

স্থানীয় বাসিন্দা সাকিব সরদার বলেন, ওসমান সরদার ছিলেন শান্ত স্বভাবের মানুষ। আমরা চাই তার পরিবার সুষ্ঠু বিচার পাক। প্রধানমন্ত্রী যেন তার ছোট শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন।

জানতে চাইলে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম হোসেন বলেন, ওসমান সরদার হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।