logo

নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ৯ পুলিশ আহত

নারায়ণগঞ্জে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ৯ পুলিশ আহত
নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন থামাতে ধাওয়া দেয় পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকরা। মঙ্গলবার অবরোধ চলাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সংঘর্ষে জেলা পুলিশের তিনজন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ছয়জনসহ মোট নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

একপর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ হয়ে সড়ক ছেড়ে যান শ্রমিকরা। এ ছাড়া সংঘর্ষে একজন শ্রমিক আহত হওয়ার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেলেও তার নাম-পরিচয় ও আহত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিট কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক একযোগে কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকার থেকে লিংক রোড হয়ে জাল কুড়ির দিকে অগ্রসর হন।

এ সময় পুলিশ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে প্রবেশের মুখে বাধা দিলেও শ্রমিকেরা ব্যারিকেড ভেঙে মূল সড়কে অবস্থান নেন। এতে বেলা ৩টার দিকে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয় পাশে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকরা।

অবরোধের একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পাশাপাশি সড়কে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এ সময় পুরো এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

সংঘর্ষে জেলা পুলিশের তিনজন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী। এ ছাড়া সংঘর্ষে একজন শ্রমিক আহত হওয়ার প্রাথমিক খবর পাওয়া গেলেও তার নাম-পরিচয় ও আহত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশের ধাওয়ায় শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে বিকেল ৫টার পর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে জানান, শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে প্রথমে তাদের বুঝিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে শ্রমিকরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে বিকেলে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার অবরোধ শেষে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেছেন। বর্তমানে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।