৮ দিন ধরে বন্ধ ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ ফেরি, ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় পারাপার

পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে নদী পারাপার হতে হচ্ছে তাদের।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, এ রুটে দুটি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে একটি ফেরি প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অন্য ফেরিটিও পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে রুটটিতে কোনো ফেরি চলাচল করছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে প্রায়ই ফেরি নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তাদের দাবি, ঘাটে পর্যাপ্ত ও ভালো মানের ফেরি না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি বাড়ছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় এসব ছোট নৌযানে পারাপারকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন যাত্রীরা।
ফরিদপুর থেকে আসা জমির উদ্দিন পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী দেখতে যাচ্ছিলেন। ধাওয়াপাড়া ঘাটে এসে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে পাবনা থেকে আসা এক যাত্রী বালিয়াকান্দিতে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ধাওয়াপাড়া ঘাটে আসেন। ফেরি না পেয়ে নৌকায় নদী পার হন তিনি। তার ভাষ্য, নদীতে স্রোত এত বেশি ছিল যে নৌকাটি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছিল না। ঘাটে ভেড়ার সময়ও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ফেরি বন্ধ থাকায় শুধু যাত্রীদের নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাও। ধাওয়াপাড়া ঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী আহাম্মাদ বলেন, কয়েক দিন ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় যানবাহন ও যাত্রী কমে গেছে। রান্না করে বসে থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
এছাড়া ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহন ঘাটে এসে ফিরে যাচ্ছে। অনেক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে নদী পার হতে হচ্ছে।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহব্যবস্থাপক ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রবিউল ইসলাম বলেন, তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ফেরির চাহিদা দিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আপডেট পাইনি।

