logo

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান পশুর হাট

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান পশুর হাট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাঙামাটি শহরের একমাত্র পশুর হাটে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কেনাবেচা। তবে গরুর সরবরাহ তুলনামূলক কম হওয়ায় দাম বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। হাটে ক্রেতাদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে পাহাড়ি দেশি গরু।

হাট-সংলগ্ন কাপ্তাই হ্রদে ভাসমান পশুর হাটও এখন বেশ সরগরম। ট্রাক টার্মিনাল এলাকার ঘাটে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা শত শত নৌকায় চলছে গরু কেনাবেচা। জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে প্রায় দুই শতাধিক নৌকায় গরু এনে বিক্রি করা হচ্ছে।

ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় পছন্দের গরু কিনতে হাট ও ঘাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মাঝারি আকারের পাহাড়ি গরুর চাহিদা বেশি। তবে এসব গরুর দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

রাঙামাটির সুবলং এলাকা থেকে গরু বিক্রি করতে আসা মঙ্গল কুমার চাকমা বলেন, সকালে ১৩টি গরু নিয়ে নৌকায় করে এসেছেন। এরমধ্যে চারটি বিক্রি হয়েছে। আজ বা আগামীকালের মধ্যে সব গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

লংগদু উপজেলার মাইনী এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসা মো. রফিক উদ্দিন বলেন, অনেক দূর থেকে নয়টি গরু নিয়ে এসেছেন। হাটে স্টল ভাড়া বেশি হওয়ায় তিনি গরু নৌকাতেই রেখেছেন।

ক্রেতারাও নৌকায় ঘুরে ঘুরে গরু কিনছেন। তার আনা নয়টি গরুর মধ্যে দুটি বিক্রি হয়েছে।

শহরের বনরূপা এলাকা থেকে গরু কিনতে আসা মো. আকবর আলী খান বলেন, হাটের চেয়ে নৌকায় গরুর সংখ্যা বেশি। হাটের কাছাকাছি হওয়ায় নৌকায় ঘুরে গরু দেখা ও যাচাই-বাছাই করার সুবিধা রয়েছে।

ভেদভেদী এলাকার বাসিন্দা মো. মোবারক হোসেন বলেন, নৌকায় ঘুরে পছন্দমতো গরু পেয়েছেন। তবে এ বছর মাঝারি আকারের গরুর দাম বেশি। তিনি যে গরুটি কিনেছেন, তার দাম পড়েছে ৮৯ হাজার টাকা।

পশুর হাটের ইজারাদার রবিউল হোসেন বাবলু বলেন, সব গরু হাটে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ভাসমান নৌকার গরুগুলোই বেশি আকর্ষণ করছে ক্রেতাদের। মানুষের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, হাটে ‘রয়েল’ ও ‘কালা পাহাড়’ নামে বড় আকারের দুটি গরু এসেছে, যেগুলোর দাম ছয় লাখ টাকার বেশি। বর্তমানে হাটে প্রায় এক হাজার গরু ও ছাগল রয়েছে।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে জেলার ১০ উপজেলায় মোট ১৯টি পশুর হাট বসেছে। জেলায় কোরবানির জন্য গরুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার। প্রস্তুত রয়েছে ৫৩ হাজার গরু।