logo
Advertisement

বাগেরহাট/লোডশেডিংয়ে কমছে চাল উৎপাদন, লোকসানের মুখে মালিকরা

লোডশেডিংয়ে কমছে চাল উৎপাদন, লোকসানের মুখে মালিকরা
অটো রাইস মিলের মেশিন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বাগেরহাটে অটো রাইস মিলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মেশিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধান সিদ্ধ, শুকানো, ভাঙানো ও চাল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে। এতে সময় ও উৎপাদন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন মিল মালিকরা।

বাগেরহাট জেলা সদরে দুটি বড় অটো রাইস মিলসহ মাঝারি আকারের কয়েকটি সেমি-অটো রাইস মিল রয়েছে। এর মধ্যে দড়াটানা নদীর তীরে বিসিক শিল্পনগরী সড়কের পাশে রয়েছে বরকত অটো রাইস মিল। এছাড়া ভৈরব নদীর তীরে রয়েছে তাপস সাহার একটি অটো রাইস মিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এসব মিলের উৎপাদন কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিল সংশ্লিষ্টরা জানান, অটো রাইস মিলে ধান সিদ্ধ, শুকানো ও ভাঙানোসহ প্রায় সব কার্যক্রমই যন্ত্রনির্ভর। উৎপাদন চলার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেশিনে জ্যাম তৈরি হলে সেটি স্বাভাবিক করে আবার উৎপাদন শুরু করতে হয়। এতে সময় ও উৎপাদন দুটোই নষ্ট হয়।

বরকত অটো রাইস মিলের শ্রমিক সাহেব শেখ বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে বিল্ডিং সেকশনের সব মেশিন বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় মেশিন জ্যাম হয়ে যায়। তখন আবার মেশিন ছাড়িয়ে নতুন করে চালু করতে হয়। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার গেলে প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ওই সময় আমাদের বসে থাকতে হয়।

আরেক শ্রমিক বলেন, আমার কাজ ধান সিদ্ধ করা। ধান সিদ্ধ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে ধান লালচে হয়ে যায়। এতে ওই ধান থেকে উৎপাদিত চালের মানও খারাপ হয়। আমরা চাই আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হোক।

বরকত অটো রাইস মিলের ফোরম্যান মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, ইদানীং বিদ্যুতের সমস্যা অনেক বেড়েছে। কলকারখানা মানেই বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ছাড়া কোনো কিছুই চালানো সম্ভব নয়। লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে ধান থেকে চাল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। তাই শিল্পকারখানার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।

তবে বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীর ভেতরে থাকা সেমি-অটো রাইস মিলগুলোতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে।

বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. শরিফ সরদার বলেন, সারা দেশের মতো বাগেরহাটেও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়া স্বাভাবিক। তবে বিসিক শিল্পনগরীতে নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকায় এখানকার সেমি-অটো রাইস মিলগুলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, বাগেরহাটে তিনটি গ্রিড—বাগেরহাট, খুলনা ও গোপালগঞ্জ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়। সন্ধ্যার সময় জেলার বিদ্যুতের চাহিদা অনেক সময় ১০০ মেগাওয়াটের বেশি হয়। তবে চাহিদা আবহাওয়া ও তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে বিদ্যুতের সরবরাহ নির্ভর করে জাতীয় গ্রিডের উৎপাদনের ওপর।

তিনি বলেন, চাহিদা আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে এবং সাপ্লাই নির্ভর করে জেনারেশনের ওপর। পরিস্থিতি অনুযায়ী ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হতে পারে।

অন্যদিকে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, ওজোপাডিকো, বাগেরহাটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, বাগেরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯ মেগাওয়াট। তবে সবসময় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায় না। কখনো ৬, কখনো ৭ এবং কখনো ৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বাসাবাটি গ্রিড সাবস্টেশন থেকে বাগেরহাট পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।

মিল মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, চাল উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখা গেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিও কমানো সম্ভব হবে।