logo

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছুটল পর্যটকবাহী জাহাজ

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছুটল পর্যটকবাহী জাহাজ
পুরোনো ছবি।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে এমভি বার আউলিয়া ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া এআইডাব্লিউটিএ ঘাট থেকে জাহাজটি ছেড়ে যায়।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আট শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমভি বার আউলিয়া সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। যাত্রীসংখ্যা ৮ শতাধিক হওয়ায় প্রথম দিন একটি জাহাজ ছাড়া হয়েছে। যারা টিকিট কেটেছেন, তারাই আজ যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার আরও দুটি জাহাজ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সেগুলোও চালু করা হবে। এছাড়া আরও ৬টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। সেগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সেন্টমার্টিনের পর্যটন নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক।

কক্সবাজার সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আতাউর রহমান বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাহাজ চলাচলের সার্বিক বিষয় নজরদারি করা হচ্ছে। কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে। পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল বাড়লে প্রতিটি বিষয় আরও নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। আশা করছি, এই যাত্রার মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সুন্দর সময় কাটাতে পারবেন।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুরোধে আমরা জাহাজের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছি। এসব সরঞ্জাম বিআইডব্লিউটিএ পরীক্ষা করে থাকে। পরিদর্শনে আমরা সন্তুষ্ট হয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করা হলেও বিভিন্ন জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি।

নৌপরিবহন অধিদফতর ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ার পর জাহাজ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফও পর্যায়ক্রমে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।

অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।