১২ তারিখে চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখাব: ডাকসু জিএস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ বলেছেন, যারা প্রকাশ্যে মিডিয়ায় সামনে ঘোষণা দিয়ে বলে ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি করা যাবে না, পরে করা যাবে। এই ধরনের ঘোষণা যারা দেয় তাদেরকে আমরা আগামী ১২ তারিখে লাল কার্ড দেখাব।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সুবর্ণচর উপজেলা চরজব্বর ডিগ্রি কলেজের মাঠে নোয়াখালী-৪ (সদর- সুবর্ণচর) আসনের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে ডাকসুর জিএস ফরহাদ বলেন, দফায় দফায় গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ জীবন দিয়েছে। ৯০ পেরিয়ে ২৪-এ এসে হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়ে আমরা একটা ভালো সমাজ আশা করেছিলাম। কিন্তু পাই নাই, দিন শেষে চাঁদাবাজির খপ্পরে আমাদেরকে আবারও পড়তে হলো।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, চট্টগ্রামের এক আসনের বিএনপির এক এমপি প্রার্থী ঘোষণা দিচ্ছেন—‘আল্লাহর ওয়াস্তে ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি করিস না।’ প্রকাশ্যে মিডিয়ার সামনে ঘোষণা দেয় ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি করো না। তাদেরকে আমরা আগামী ১২ তারিখে লাল কার্ড দেখাব।
এস এম ফরহাদ টিআইবির রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক সংঘাতের ৯১ শতাংশই ঘটছে ক্ষমতাসীন বা বড় দলগুলোর নিজেদের মধ্যে, যেখানে গত দেড় বছরে ২৭৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আমরা আগামী নির্বাচনে পাহারাদার অ্যাপের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠন রোধে কাজ করব। কোথাও অপরাধ সংঘটিত হলে নাগরিকরা মোবাইলে তা ধারণ করে সাবমিট করলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
বিগত শাসনের তুলনা করে ডাকসুর জিএস বলেন, জামায়াতের সাবেক দুজন মন্ত্রী ক্ষমতায় থাকাকালীন এক টাকারও দুর্নীতি করেননি। অথচ অন্যান্য দলগুলোর দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ তিনবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
সবশেষে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবে তরুণরা বুক পেতে দিয়েছে কোনো অপশক্তিকে ভোটকেন্দ্র দখল করতে দেওয়ার জন্য নয়। ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার জন্য যুবকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি মুরুব্বিদের প্রতি শেষ বয়সে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সভায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সাঈয়েদ আহমেদ, ছাত্রশিবিরের তথ্য সম্পাদক আবু সায়েদ সুমনসহ উপজেলার জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনি জনসভায় উপজেলা জামায়াতের আমির জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার।