বিশেষ ক্ষমতায় নারীদের বশ করেন কবিরাজ, অবশেষে গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কবিরাজি চিকিৎসার নামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০) নামে এক কথিত কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮ এর সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কলাপাড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করা হয়। গ্রেপ্তার মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ায় এলাকায় তিনি ‘মুসা হুজুর’ নামে পরিচিত।
এ ঘটনায় গত ৩১ আগস্ট কিশোরীর সৎবাবা বাদী হয়ে মুসাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর সৎ বাবা বরিশালের রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী ও সৎ মেয়েকে নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে কলাপাড়া পৌর শহরের মদিনাবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। কিশোরী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় দুই মাস আগে পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর চিকিৎসার সুবাদে মুসা প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। এক পর্যায়ে কিশোরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরীর সৎবাবা বাসায় না থাকার সুযোগে মুসা ১০ থেকে ১১ জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় যান। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এসময় মুসার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা গোপনে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্নভাবে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে কিশোরী মুসাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে মুসার সহযোগীরা ধারণ করা অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও বিভিন্ন নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এবং বাড়ির মালিকের নম্বরে পাঠায়। গত ১৫ অক্টোবর মুসাসহ তার সহযোগীরা আবারও ওই বাসায় গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে না করার কথা জানিয়ে দেন। পাশাপাশি তাদের কথামতো না চললে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
