পটুয়াখালীতে গাছে বেঁধে দুই পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা, ভিডিও ভাইরাল

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে হাঁস তাড়া করার অভিযোগ তুলে দুটি পোষা কুকুরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামের খেজুরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুকুর দুটিকে প্রকাশ্যে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় কুকুর দুটি। এ সময় উপস্থিত অনেকেই এমন নির্মম ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও দেখা যায়, দুই ব্যক্তি গাছের সঙ্গে বাঁধা কুকুর দুটিকে বারবার লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে কুকুর দুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ধারণ ও প্রকাশকারী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি ভিডিওসহ পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের সঙ্গে থাকা ভিডিওসহ বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী কোনো প্রাণীর প্রতি অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া, নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ আইনে দোষী প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে শাস্তির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
কুকুর দুটির মালিক জাহাঙ্গীর জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি কুকুর দুটি লালনপালন করে আসছিলেন। কখনও কারও বাড়িতে গিয়ে হামলা বা উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি। বৃহস্পতিবার সকালে মঞ্জু ও জহিরুল কুকুর দুটি তাদের হাঁস তাড়া করেছে অভিযোগ তুলে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে বারবার কুকুর দুটিকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও কেউ তা শোনেনি। তার সামনে কুকুর দুটিকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় এবং একপর্যায়ে তারা মারা যায়।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিললে প্রাণী কল্যাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
.png)






