খাগড়াছড়ি/পদ শূন্য ৫০৮টি, বেতন বন্ধ ১০৭ শিক্ষকের

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। জেলার ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২১১টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। পাশাপাশি অনুমোদিত ৩ হাজার ২৩টি সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে ২৯৭টি পদও বর্তমানে খালি।
শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি পার্বত্য জেলাটিতে নিয়োগ জটিলতায় আরও বিপাকে পড়েছেন ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ১০৭ জন সহকারী শিক্ষক।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ির ৫৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ২১১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এছাড়া অনুমোদিত ৩ হাজার ২৩টি সহকারী শিক্ষকের পদের মধ্যে ২৯৭টি পদ শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নানা জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় জেলার শিক্ষিত ও মেধাবী চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ১০৭ জন সহকারী শিক্ষকও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। নিয়োগসংক্রান্ত মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় তাদের চাকরির ভবিষ্যৎ ও বেতন-ভাতা নিয়ে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে নির্দিষ্ট বয়সসীমার ঊর্ধ্বে গিয়ে ক্ষমতা বলে ১০৭ জন সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিচালিত জেলা পরিষদ। যার মাশুল গুনতে হচ্ছে এসব শিক্ষককে। নিয়োগসংক্রান্ত একটি মামলা হাইকোর্টে চলমান থাকায় তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। ফলে একদিকে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, অন্যদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা—দুই সংকটে পড়েছে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
খাগড়াছড়ির সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের কিছু পদ শূন্য রয়েছে। ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বিষয়টিও আদালতের চলমান মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আদালতের সিদ্ধান্ত ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক সংকট দূর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগসংক্রান্ত মামলার জটিলতা নিরসনে বিজ্ঞ আদালতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সাবেক খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ি এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ও দক্ষ শিক্ষক প্রয়োজন। শিক্ষক সংকট দীর্ঘায়িত হলে দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা জরুরি। ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া ১০৭ জন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগসংক্রান্ত মামলা হাইকোর্টে বিচারাধীন। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করে আদালতের নির্দেশে এ জেলায় নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করা হবে।



