logo

ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত শেরপুরের গারো পাহাড়

ঈদের ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত শেরপুরের গারো পাহাড়

শেরপুরের তিনটি উপজেলার উত্তর সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত গারো পাহাড় এবার ঈদে পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গারো পাহাড়ে আছে গজনী অবকাশ কেন্দ্র এবং মধুটিলা ইকোপার্কসহ অনেক দর্শনীয় স্থান। এছাড়া পানিহাটা ও রাজার পাহাড়ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে।

শীতকালে, ঈদ এবং অন্যান্য ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই পাহাড়ে ছুটে আসে নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখার জন্য। এবারও ঈদে পর্যটক আকর্ষণের জন্য গারো পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলো সাজানো হয়েছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলো ইতিমধ্যেই ধোয়া-মোছা এবং রঙ-রঙের কাজ শেষ করেছে। দর্শনার্থী বরণের জন্য বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে। রমজান মাসের কারণে এক মাস ধরে পর্যটক কম ছিল, তবে এবার ঈদে পাহাড়ের প্রকৃতি এবং মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে সারা দেশের লক্ষাধিক দর্শনার্থী ছুটে আসবেন। এ আশায় নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ী ও ইজাদাররা।

গজনী বোডক্লাবের ইজারাদার এরশাদ হোসেন বলেন, শীতে অনেক দর্শনার্থী পেয়েছি। রমজান মাসে কম আসার কারণে এক মাসের ঘাটতি হয়েছে। এবার ঈদে প্রচুর দর্শনার্থী আসবে। আমরা রাইডগুলো রঙ করেছি এবং পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি ভালো ব্যবসা হবে।

গজনী অবকাশ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন যোগ করেন, রমজান মাসে লোকজন আসে না। তবে ঈদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসবে। নতুন মালামাল আনা হচ্ছে এবং রাইডগুলো সাজানো হচ্ছে। আশা করছি ভালো সাড়া পাবো।

গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্রে রয়েছে ভাসমান সেতু, ওয়াটার পার্ক, ওয়াটার কিংডম, প্যারাডোবা, ঝুলন্ত ব্রীজ, রোপওয়ে, জিপলাইনার, ক্যাবল কার, প্যাডেল বোট, সাম্পান নৌকা, আলোকের ঝর্ণাধারা, মিনি চিড়িয়াখানা এবং শিশু পার্ক। ভিউ টাওয়ারে উঠে সীমান্তের পাহাড়ের লুকোচুরি খেলা দেখার সুযোগ রয়েছে।

মধুটিলা ইকোপার্কে আছে স্টার ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার, প্যাডেল বোট, ঝর্ণা, মিনি চিড়িয়াখানা এবং শিশু পার্ক। এছাড়াও সুউচ্চ টিলায় ওঠার জন্য রয়েছে সিড়ি, যা দর্শনার্থীদের আরও উপভোগ্য অভিজ্ঞতা দেবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাকিল আহম্মেদ জানান, শেরপুরের অন্যতম আকর্ষণ পর্যটন কেন্দ্র হলো গজনী অবকাশ কেন্দ্র। ঈদ সামনে রেখে শেরপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো নানাভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে বরাবরই এখানে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। গারো পাহাড়ের এসব পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদেই আনন্দ উপভোগ করবেন আগতরা।