ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার ৩ যুবক

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক প্রবাসী ছাত্রলীগ কর্মীকে খুঁজতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েছেন তিন যুবক। প্রথমে তাদের ‘ডাকাত’ সন্দেহে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বুচিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাগনভুঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর আলামপুর বড় বাড়ির প্রবাসী আব্দুল হামিদের ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী কামরুল হাসানের সঙ্গে স্থানীয় যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন বাবুর ছেলে মিস্টারের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে মিস্টার বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। কামরুল হাসান ২০২১ সালে দুবাই চলে যান এবং ২০২৪ সালে ১৭ দিনের জন্য দেশে এসে আবার প্রবাসে ফিরে যান। সর্বশেষ গত ৩০ মে বাবা ও ছেলে পুনরায় দেশে আসেন।
দেশে ফেরার খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে পূর্বের প্রতিশোধ নিতে মিস্টার ও তার সহযোগীরা কামরুল হাসানদের বাড়িতে যান। এ সময় ওই বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ও শোরগোল ঘটলে বাড়ির লোকজনের আত্মচিৎকারে গ্রামবাসী ছুটে এসে তাদের ধাওয়া দেয়। ধাওয়া খেয়ে মিস্টার পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও কুঠিরহাটের হৃদয়, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক একরামুল হক ও মাওলা নামের তিন যুবককে ‘ডাকাত’ সন্দেহে আটক করে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে দাগনভূঞা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হামিদ বলেন, বিষয়টি মূলত ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহে তাদের আটক করেছিল। পরে আমরা নিজেরা বসে বিষয়টি আপস-মীমাংসা করেছি। যা ঘটেছে তার জন্য আমি দুঃখিত।
এদিকে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মনসুর ভূঁইয়া বলেন, আমরা যতটুকু জেনেছি ঘটনাটি পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটেছে। এই ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত কি না, তা আমাদের কেউ জানায়নি। আমরা বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সে মোতাবেক কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান জানান, যার ওপর পূর্ব প্রতিশোধ নিতে ওই যুবকেরা গিয়েছিল, তার বাবা থানায় এসে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলেন। যেহেতু এই ঘটনায় কোনো পক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ ছিল না এবং পুলিশ তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কোনো আলামত বা প্রমাণ পায়নি, তাই মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জুলুম করা বা কোর্টে চালান করা ন্যায়সংগত হতো না।
