logo

জামায়াত নেতার নির্দেশে ভোটের সিল বানানো হয়, আদালতকে প্রেস মালিক

জামায়াত নেতার নির্দেশে ভোটের সিল বানানো হয়, আদালতকে প্রেস মালিক

লক্ষ্মীপুরে ছয়টি ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী সোহেল রানা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা শরীফ হোসেন সৌরভের নির্দেশে সিলগুলো বানিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

সোহেল রানা সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলমের ছেলে। মারইয়াম প্রিন্টার্সের মালিক সে। গত মঙ্গলবার তাকে আটক করে সদর থানা পুলিশ।  

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের এপিপি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আহাদ শাকিল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আব্দুল আহাদ শাকিল বলেন, বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসামি সোহেল অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি সিল তৈরির অর্ডারকারী শরীফের নাম প্রকাশ করেছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী আসামির স্বীকারোক্তি ও জামায়াত নেতার সম্পৃক্ততার কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছয়টি সিলসহ ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই সদর মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে দুজনের নামে মামলা করেন। গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানাকে বুধবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। সোহেল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, শরীফ হোসেন সৌরভ নামে এক ব্যক্তি তাকে দিয়ে সিলগুলো বানিয়েছে। আমরা তাকে খুঁজছি।

সিল তৈরির নির্দেশদাতার রাজনৈতিক দলের পরিচয় জানতে চাইলে হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, আমরা এটা ভেরিফাই করছি। তাকে আটকের পর ব্যাকগ্রাউন্ডটা পাব। আমরা তার কিছু ছবি পেয়েছি, শুভেচ্ছাবার্তা পেয়েছি। তাকে আটকের পর বলা যাবে, সে কোন দলের সদস্য। সিল বানানো মানেই হচ্ছে জাল ভোট দেওয়ার প্রবণতা। আমাদের তদন্ত চলছে। আসামিকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আটকের পর সোহেল জানান, গত ৩০ জানুয়ারি তার হোয়াটসঅ্যাপে সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেয় শরীফ। অর্ডারকারী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় পুলিশ ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে শরীফকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় জেলা জামায়াত।

লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, সৌরভ ওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী। এ ঘটনার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন জানান, সৌরভ লক্ষ্মীপুর পৌর ৪নং ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি। এই পরিচয়ে সে জামায়াতের পক্ষে ছবিসহ পোস্টারও প্রচার করেছে।