লালদীঘির পাড়ে সড়ক বিভাজকে কী করছেন কেরানীগঞ্জের তিন বোন

চট্টগ্রামের লালদিঘীর পাড় এলাকায় সড়ক বিভাজকের ওপর বেশ আয়েশ করে পান চিবাচ্ছেন তিন বৃদ্ধা। নগরীর ব্যস্ততম এই সড়ক বিভাজকের দুই পাশ দিয়ে অবিরত চলছে গাড়ি। তাতে যেন তাদের কিছু যায় আসে না, রীতিমতো মাদুর পেতে আড্ডা দিচ্ছেন তারা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকের দৃশ্য এটা। চট্টগ্রামে এমন দৃশ্য খুব পরিচিত না। আগ্রহ নিয়ে তাই কাছে যেতে জানা গেল জব্বারের বলী খেলার মেলায় অংশ নিতে এসেছেন তারা।
কিন্তু জব্বারের বলী খেলা আরও চার দিন পর। তাহলে এত আগে চলে এলেন কেন? প্রশ্ন করতেই যেন খানিকটা বিরক্ত হলেন ওই তিন নারীর একজন। বললেন, আপনাকে এত কথা বলতে যাব কেন? আমাদের লাভ কী তাতে?
অবশ্য লাভ-ক্ষতির ব্যাপারেও তারা খুব চিন্তিত বলে মনে হলো না। কারণ, লাভ খুঁজে উত্তর পাওয়ার আগেই বলা শুরু করলেন আরেকজন, ‘আমরা কেরাণীগঞ্জ থেকে ছয় বোন এসেছি চুড়ি নিয়ে। আমাদের তিনটা ভাতিজাও আছে।’
তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল রোববার রাত ১১টায় তারা এসেছেন। মেলা ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে জেনেই এসেছেন। উদ্দেশ্য মেলায় ভালো একটা জায়গায় দোকান বসানো। উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। একদম লালদিঘীর ময়দানের প্রবেশমুখেই ঘাঁটি গেড়েছেন ছয় বোন। তাদের তাই মেজাজ ফুরফুরে।
তাদের গ্রামের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে। সারা দেশ ঘুরে ঘুরে মেলাতে দোকান বসান। এটি তাদের পারিবারিক ব্যবসা। তবে জব্বারের বলী খেলার মেলার বিষয়ে একটা আবেগও আছে।
কথা বলার এক ফাকে সালমার পাশের জন বলে উঠলেন, ‘এই মেলায় আমরা প্রতিবার আসি। আমার মা এই মেলায় দোকান দিত। আমার ভাইয়েরাও দোকান দিত।’
এবার ভাইয়েরা আসেনি–প্রশ্ন করে জানা গেল তিন ভাইয়ের সবাই মারা গেছেন। কিন্তু এই মেলার সঙ্গে তাদের প্রয়াত মা-ভাইয়ের স্মৃতি জড়িত। কতটা আবেগ, সেটা চোখে ঝরে পড়ছিল তিন বোনেরই।
ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলার এটি ১১৭ তম আসর। ১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বাংলার যুবসমাজকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী করা এবং দেশীয় সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। এই খেলাকে কেন্দ্র করে লালদিঘীর ময়দানের আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তিন দিনব্যাপী মেলা হয়। এসএসসি পরীক্ষার সুবিধা বিবেচনায় এবার মেলা হবে দুদিন।