সাড়ে ১২ হাজার টাকা বেতন রমজানের, গ্যাস কিনতেই খরচ ২৩০০

মাসে সর্বসাকুল্যে বেতন পান সাড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এরমধ্যে বাসাভাড়া বাবদ দিতে হয় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। রান্নার জন্য একটি সিলিন্ডার গ্যাস কিনতেই খরচ হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এরপর বিদ্যুৎ বিল, চাল-ডাল, সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে মাসের বাকি সময় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার ফাউন্টেন গার্মেন্টস লিমিটেডের ২১ বছর বয়সি সুইং হেলপার রমজান হোসেনের।
শুধু রমজানই নন, শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার নিম্নপদের পোশাকশ্রমিকের বর্তমান জীবনযাত্রার চিত্র ঠিক একই রকম। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের ওপর সিলিন্ডার গ্যাসের লাগামহীন মূল্যে রীতিমতো দিশেহারা তারা।
সাভার ও আশুলিয়ার শ্রমিক অধ্যুষিত আবাসিক এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসিন্দাই পোশাক কারখানার শ্রমিক, হেলপার কিংবা স্বল্প আয়ের বিভিন্ন পেশায় কর্মরত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সিলিন্ডার গ্যাসের চড়া দাম তাদের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়েছে। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, একই ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম দোকানভেদে ভিন্ন। সাধারণ সময়ে নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা বলা হলেও কয়েকটি দোকানে ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।
বাড়তি দামের কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন বিক্রেতা কোম্পানি থেকে ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কেনার কথা জানান। আবার কিছু দোকানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দিনের বেলায় ‘গ্যাস নেই’ বলে সিলিন্ডার রেখে রাতে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
হামিম গ্রুপে অপারেটর হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ সজীব আহমেদ বলেন, ‘সকালে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে দেখি চরম বিশৃঙ্খলা। এক দোকানে ১ হাজার ৯০০ টাকা চাইলে অন্য দোকানে চাইছে ২ হাজার টাকা। ডিলার ও দোকানদারেরা একেক সময় একেক কারণ দেখাচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৫ হাজার টাকা বেতনে বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, ওষুধ ও সংসারের খরচ চালিয়ে এত টাকা দিয়ে গ্যাস কেনা আমাদের জন্য অসম্ভব। আমাদের চেয়ে কম বেতনের হেলপার বা আয়রনম্যানরা কীভাবে চলবে? অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
শ্রমিকদের এ দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফাউন্টেন গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্য ও গ্যাসের ঊর্ধ্বগতি শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমিত মজুরি দিয়ে বাসাভাড়া ও খাবারের খরচ মেটানোই যেখানে কঠিন, সেখানে গ্যাসের এমন চড়া দাম তাঁদের পরিবার নিয়ে চলা আরও কঠিন করে তুলছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, কোথাও অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে কি না, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে মনিটরিং করছি। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকলে আমাদের জানালে দ্রুত অভিযান চালিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
