logo

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে ৫-৬ ঘণ্টা, অতিষ্ঠ নোয়াখালীর জনজীবন

২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে ৫-৬ ঘণ্টা, অতিষ্ঠ নোয়াখালীর জনজীবন

তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে নোয়াখালীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বড় একটি সময় লোডশেডিংয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।

জেলার সেনবাগ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ বিভাগে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জ্বালানি সংকটকে দায়ী করছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীর ৯টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৯ লাখ গ্রাহক বর্তমানে চাহিদার তুলনায় নামমাত্র বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ থেকে ১৯০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ কম।

অন্যদিকে পিডিবি সূত্র জানায়, জেলা শহরের প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহকের জন্য সকালে ২৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিদ্যুৎ সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বিকেল থেকে সন্ধ্যায় চাহিদা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটে পৌঁছালে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেয়।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন চাটখিল ও সেনবাগের বাসিন্দারা। চাটখিলের আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২৪ ঘণ্টায় বড়জোর ৫–৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। একবার এলে ৩০–৪০ মিনিট থাকে, তারপর আবার চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নাহার আক্তার জানান, ১২ ঘণ্টায় ৪-৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। গরমে অসুস্থ শিশুর অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।

সেনবাগের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকে। এভাবে দিন কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, কারেন্ট ১০ মিনিট থাকে, তিন ঘণ্টা থাকে না। অফিসে ফোন করলেও কেউ ধরেন না।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। সেনবাগের একটি ওয়ার্কশপের মালিক জাহিদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ ঠিকমতো করতে পারছি না। সময়মতো ডেলিভারি দেওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকদের বেতন দেওয়া নিয়েও দুশ্চিন্তা হচ্ছে।

কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, চাহিদার মাত্র ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যবসা, শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থী হোসনেয়ারা জানায়, সন্ধ্যার সময় পড়াশোনা করতে হয়, কিন্তু তখনই বিদ্যুৎ থাকে না।

বিদ্যুৎ সমস্যার বাইরে নেই হাসপাতালগুলোও। চাটখিল ও সেনবাগের বিভিন্ন হাসপাতালে দিনে ৮ থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করছে। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুতের জিএম সারোয়ার জাহান বলেন, চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।

নোয়াখালী পিডিবির কর্মকর্তা হাবিবুল বাশার জানান, বর্তমানে সামগ্রিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাহিদা বেশি থাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে।