logo

তৃতীয় দিনেও শাটডাউন জামালপুর নার্সিং কলেজে, যোগদান করতে পারেননি ইনচার্জ

তৃতীয় দিনেও শাটডাউন জামালপুর নার্সিং কলেজে, যোগদান করতে পারেননি ইনচার্জ
জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে তৃতীয় দিনের মতো চলছে অনির্দিষ্টকালের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। এতে বন্ধ রয়েছে ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যোগদান করতে এসে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েন নতুন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিন। শেষ পর্যন্ত যোগদান করতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাকসুদা ইয়াসমিন কলেজে যোগদান করতে এলে তাকে প্রবেশে বাধা দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে জামালপুর নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ শাহজাদী মাহমুদাকে শেরপুর নার্সিং ইনস্টিটিউটে বদলি করা হয়। একই আদেশে শেরপুরের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মাকসুদা ইয়াসমিনকে জামালপুরে পদায়ন করা হয়। এ আদেশের পর থেকেই মাকসুদা ইয়াসমিনের যোগদান ঠেকানো এবং বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে মাকসুদা ইয়াসমিন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাঁর আচরণও শিক্ষার্থীবান্ধব নয়। এসব কারণে তাঁকে জামালপুর কলেজের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে মেনে নিতে চান না তাঁরা।

শিক্ষার্থী জয় বলেন, তিন দিন ধরে আন্দোলন চলছে। আজ তিনি যোগদান করতে এসেছিলেন, কিন্তু আমরা তাকে প্রবেশ করতে দিইনি। তার যোগদানের আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। অন্য কাউকে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দিলে আমাদের আপত্তি নেই।

শিক্ষার্থী ফারহানা বলেন, শেরপুরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় আমরা মাকসুদা ইয়াসমিনকে আমাদের কলেজে দেখতে চাই না। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

কলেজের নার্সিং ইন্সট্রাক্টর সামিনা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষকেরাও কলেজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ক্লাস ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মাকসুদা ইয়াসমিন বলেন, আমার যোগদানে বাধা দিতে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। যোগদান করতে এসে আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।