logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙন রোধে প্রকল্প অনুমোদন একনেকের

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার ভাঙন রোধে প্রকল্প অনুমোদন একনেকের

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলায় পদ্মা নদীর উভয় তীরের ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ ছাড়া মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম। এর আগে রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে অন্য প্রকল্পের সঙ্গে এই দুটি প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম জানান, নদীসমূহের টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পদ্মা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ (১ম অংশ) প্রকল্প এবং রাবারড্যাম ও মহানন্দা নদীর ড্রেজিং কাজের জন্য ২টি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, দুর্লভপুর ও পাকা এলাকায় পদ্মা নদীর বামতীরে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার হতে ৯ দশমিক ২ কিলোমিটার অংশ স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরআশাড়িয়াদহ এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীরে ৩৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার হতে ৪০ কিলোমিটার অংশ ও শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর (রঘুনাথপুর) এলাকায় শূন্য কিলোমিটার হতে ১ কিলোমিটার সতর্কতামূলক নদীতীর সংরক্ষণ কাজ।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আলাতুলি প্রকল্পে পদ্মা নদীর বামতীরে কিলোমিটার ৪১ দশমিক ৯ হতে কিলোমিটার ৪৯ দশমিক ১ এর মধ্যবর্তী ৫০০ মিটার নদীতীর পুনর্বাসন কাজ রয়েছে। এ কাজে ব্যয় ধরা হচ্ছে ৭৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা।

অন্যদিকে রাবারড্যামে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭০ কোটি ৬৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রকৌশলী রকিবুল ইসলাম আরও জানান, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া রাবার ড্যামের ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এক শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। একনেকে অনুমোদন হওয়া অর্থ বরাদ্দসাপেক্ষে বাকি কাজটুকু সম্পন্ন করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পদ্মা নদীর বামতীরে ১১ দশমিক ১৫ কিলোমিটার এবং ডানতীরে ১৪ দশমিক ২০ কিলোমিটার মোট ২৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যে ব্যাপক নদীতীর ভাঙন রয়েছে। পদ্মা নদীর প্রবেশমুখ হতে ফারাক্কা ব্যারাজের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। যার ফলে প্রতি বছর শত শত পরিবার তাদের ভিটামাটি, ফসলি জমি, বাজার, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, আমবাগানসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদীতে বিলীন হচ্ছে।

পদ্মা নদীর মরফোলজিক্যাল (রূপগত) পরিবর্তনের কারণে ও ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে গত দশ বছরে প্রায় ৩ কিলোমিটার নদীর ব্যাংকলাইন পরিবর্তন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০২৩ সালে আইডব্লিউএম ফিজিবিলিটি স্টাডি করে।

সেই সুপারিশের আলোকে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, মনাকষা ও পাকা এলাকায় পদ্মা নদীর বামতীরে প্রায় ৬ কিলোমিটার স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ কাজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর ডানতীরে ৩ কিলোমিটারের বেশি সতর্কতামূলক নদীতীর সংরক্ষণ কাজ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় আলাতুলি প্রকল্পে পদ্মা নদীর বামতীরে ৫০০ মিটার নদীতীর পুনর্বাসন কাজ অন্তর্ভুক্ত করে প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।

পরে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পেল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অংশে পদ্মা নদীর উভয় তীরে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নদীভাঙন রোধ হবে, সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ রক্ষা পাবে এবং এলাকাবাসী ভাঙনের কবল থেকে মুক্তি পাবে।