logo

বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, বাগেরহাটে চিকিৎসাধীন ৬৪ রোগী

বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ, বাগেরহাটে চিকিৎসাধীন ৬৪ রোগী
চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা। রোববার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বর্ষা মৌসুম এলে মশাবাহিত ভাইরাস ডেঙ্গু হানা দেয়। এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কিছু অঞ্চলে হঠাৎ করে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। সুন্দরবনঘেঁষা দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা বাগেরহাটে ৬৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ৪৭ জন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন, শরণখোলায় দুইজন, মোংলায় একজন এবং মোল্লাহাটে একজন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা) ১৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার এশিয়া পোস্টকে বলেন, হঠাৎ করে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কচুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি। ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৯৭ জন বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, জেলার সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

একইসঙ্গে জেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসক ও নার্সরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রতিটি রোগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা। রোববার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল। ছবি: এশিয়া পোস্ট
চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা। রোববার বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী মনিরা বেগম বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলাম। প্রথমে সাধারণ জ্বর ভেবে ওষুধ খেয়েছিলাম। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করাই। তখন ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছি। আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থ বোধ করছি।

আরেক রোগীর স্বজন মো. অয়ন বলেন, হঠাৎ জ্বরের সঙ্গে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। এখন আগের চেয়ে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আ স ম মাহবুবুল আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায় বিশ্রাম বা ঘুমের সময়ও মশারি ব্যবহার করা উচিত। কারও জ্বর হলে নিজে থেকে ওষুধ সেবন না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সম্মিলিতভাবে সবাই সচেতন ও সতর্ক থাকলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।