টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে কৃষিতে বিপর্যয়, ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক কৃষক

টানা ছয় দিনের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বরিশাল বিভাগের কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল। এতে লক্ষাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মুগডাল চাষিরা।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিভাগের প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ২২২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৫৯ জন কৃষক।
অতিরিক্ত বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। বাতাসে নুয়ে পড়েছে ৭৫ হাজার ৬১১ হেক্টর জমির ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৪৬৩ জন কৃষক।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মুগডালের। ৭৬ হাজার ৬৮৯ হেক্টর জমির মুগডাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ৫৭ হাজার ৮৬৪ জন কৃষক।
এ ছাড়া ৭৯০ হেক্টর জমির মরিচের আবাদ নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৫৭৪ জন কৃষক। ১০ হাজার ৫৯৪ হেক্টর জমির চীনাবাদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ৬ হাজার ৬০৬ জন কৃষক। ৪ হাজার ৪৪৮ হেক্টর জমির সয়াবিন নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬৬ জন কৃষক।
গ্রীষ্মকালীন শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৩ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৭ হাজার ২৩২ জন কৃষক।
এ ছাড়া আউশ বীজতলা, রোপা আউশ ধান, পাট, পেঁপে, কলা, পান, মিষ্টি আলু, ভুট্টা, তিল ও সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কৃষক আনিস হাওলাদার বলেন, টানা বৃষ্টি আর জোয়ারের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। যে আশা নিয়ে চাষ করেছিলাম, তা এখন পানিতে ভেসে গেছে।
বরিশাল সদর উপজেলার কৃষক ফাহিম বলেন, ধান কাটার আগেই ক্ষেত ডুবে গেছে। এখন অর্ধপাকা ধান কাটতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন অনেক কমে যাবে।
নবগ্রাম ইউনিয়নের কৃষক রাকিব মোল্লা বলেন, ছয় দিনের বৃষ্টি আর বাতাসে বোরো ধান একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। নুয়ে পড়া ধান পরিপক্ব হওয়ার আগেই কাটতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বিভাগের বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাদের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
