জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনমনে ক্ষোভ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে নাটোরের কৃষি ও পরিবহন সেক্টরসহ সব ক্ষেত্রে। মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। তেলের দাম বাড়ানোর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, বাসভাড়া বৃদ্ধিসহ সব ক্ষেত্রে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলার বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে তারা জানান, সরকার হঠাৎ করে রাত ১২টার পর থেকে সকল ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি করেছে। এতে করে বাসযাত্রী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সকাল থেকেই বাসভাড়া বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গাড়ি কমিয়ে দিয়েছেন বাস মালিকরা। কিছু কিছু বাসে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও শুরু হয়েছে। তবে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া এখনো বাড়েনি।
শহিদুল ইসলাম নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সারাদিন গ্রামগঞ্জে ঘুরে কোম্পানির খাদ্যদ্রব্যের অর্ডার সংগ্রহ করেন তিনি। যে বেতন পান তা একেবারেই অপ্রতুল। এ চাকরি করে এমনিতেই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। এরপর আবার তেলের দাম বৃদ্ধি করায় আর চাকরি করাও সম্ভব হবে না। এখন চাকরি করতে গেলে মোটরসাইকেল বাদ দিয়ে বাইসাইকেল চালিয়ে কাজ করতে হবে।
ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ডাক্তার ও ফার্মেসি ভিজিট করতে হয়। একজন প্রতিনিধি প্রতিদিন গড়ে ১০০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালান। তাতে ২৫০-৩০০ টাকার তেল খরচ হতো। এখন সেখানে ৩০০-৪০০ টাকা খরচ হবে। আগে ১৩৫ টাকা লিটার থাকাকালে প্রতি কিলোমিটার ৫ টাকা হারে কোম্পানি তাদের প্রতিনিধিদের দিত। এখন সেই তেলের দাম ১৬৫ টাকা হয়েছে। তাও ৫ টাকাই থেকে গেছে। কিন্তু কোম্পানির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কোনো সহায়তা নেই।
আরেক কোম্পানির প্রতিনিধি মামুন মন্ডল জানান, তেলের দাম বাড়লেও চিকিৎসক ও ফার্মেসি ভিজিট কম করা যাবে না। ভিজিট কম করলে ওষুধ বিক্রি কমে যাবে। তখন বেতন-ভাতাও কমে যাবে। এতে সংসার খরচ নিয়ে আরও চাপে পড়ে যেতে হবে। তাই সংসার খরচ কম করে হলেও মোটরসাইকেলে তেল কিনতেই হচ্ছে। বাড়তি খরচ তাদের নিজেদের পকেট থেকেই বহন করতে হচ্ছে।
নাটোর ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিলন আলী বলেন, হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধিতে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে। জ্বালানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভাতা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
হানিফ এন্টারপ্রাইজ নাটোর বাস কাউন্টার ম্যানেজার আজমত আলী বলেন, হঠাৎ করে এভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় তারা বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখনো তাদের বাসে পূর্বের ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। আগামীতে বাসভাড়া বাড়ানো না হলে তারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার বাবুল হোসেন বলেন, তারা সরকারনির্ধারিত দামে রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই তেল বিক্রি করা শুরু করেছেন।