৪০ মণ ওজনের ‘সাদা সুলতানের’ সঙ্গে খাসি ফ্রি

সাদা ধবধবে গায়ের রং। উচ্চতা ছয় ফুট। লম্বায় ১০ ফুট। চার বছর ধরে বেড়ে উঠছে। শখ করে নাম রাখা হয়েছে ‘পাবনার সাদা সুলতান’। এবারের কোরবানি ঈদে হাট কাঁপাচ্ছে সে।
খামারি ফারুক হোসেন সরদার দাবি করেন, ঈদকে সামনে রেখে ৪০ মণ ওজনের এই গরুর দাম হাঁকানো হচ্ছে হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। গরুটিকে একনজর দেখতে খামারি ফারুক হোসেনের বাড়িতে ভিড় করছেন সম্ভাব্য ক্রেতারা।
খামারি ফারুক সরদার পাবনার উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের হামিদপুর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত মসলেম সরদারের ছেলে। তিনি ২০০৩ সালের দিকে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) যান। মায়ের ক্যানসারের খবর শুনে দেশে চলে এসে ২০১১ সালের দিকে খামার শুরু করেন।
তিনি বলেন, খামারে ২০টির মতো গরু আছে। একটি গরু থেকে এটি জন্ম নেয়। চার বছর ধরে পালন-পালন করছি। এখন বিক্রি করতে অনেক মায়া হচ্ছে। তারপরও বিক্রি করতে হবে। যদি কেউ ১৫ লাখ টাকা দিয়ে কেনে তাহলে সঙ্গে একটি খাসি ফ্রি দেওয়া হবে।
খামারি ফারুক সরদারের স্ত্রী মুনতাহিনা আক্তার বলেন, গরুটির সঙ্গে মায়ায় আবদ্ধ হয়ে গেছি। তাকে একনজর না দেখলে ভালো লাগে না। ঘরের মধ্যে থাকলেও তাকে বারবার দেখতে যাই।
প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ খান বলেন, গরুটি সাদা রঙের হওয়ায় দেখতে খুব সুন্দর। গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অনেক লোকজন আসে। এত বড় গরু আসলে আমার চোখে দেখিনি। আশপাশে এমন গরু কেউ লালন-পালন করেনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছর জেলায় তিন লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে।। বিপরীতে ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে প্রস্তুত রয়েছে ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে দুই লাখ ৬৪ হাজার পাঁচটি গরু ও তিন লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭ টি ছাগল। উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হবে বলছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, জেলায় অনেক খামারি কোররবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করেছেন। এবার খামারিরা বেশ লাভবান হবেন। গয়েশপুরের ওই খামারিও গরুটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
