বরিশালে এবারও নতুন খোলসে লক্কড়-ঝক্কড় বাস

ঈদ সামনে রেখে গাড়ি মেরামতের কারখানাগুলোতে দম ফেলার ফুরসত নেই শ্রমিকদের। পুরাতন বাস নতুন সাজে রাস্তায় নামাতে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে মেরামতরত বাসগুলো যে লক্কড়-ঝক্কর তা মানতে নারাজ শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। আর সড়ক নিরাপদ রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানায় প্রশাসন।
লক্কড়-ঝক্কড় পুরোনো বাসগুলো সাজানোর কাজ চলছে বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায়। শ্রমিকদের কেউ করছে রং আবার কেউ ব্যস্ত মেরামতে। ঈদ সামনে রেখে দ্রুত রাস্তায় বাসগুলো নামানোর জন্য শেষ মুহূর্তে দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
প্রথম দেখায় পুরোনো বাসগুলো লক্কড়-ঝক্কড় মনে হলেও তা মানতে নারাজ শ্রমিকরা। এসব বাস কোনো ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারবে বলেও দাবি তাদের।
বাস মেরামতের কাজ করতে করতে শফিক নামের এক শ্রমিক জানান, কিছুদিন আগে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এখন একটিকে মেরামত করে ঈদের জন্য প্রস্তুত করছি। দুর্ঘটনা যেহেতু হয়েছে সেটাকে তো কিছুটা জোড়াতালি দিয়ে কাজ করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এর মানে যে এটা লক্কড়-ঝক্কড় সেটা বলা ঠিক না।
আরিফ নামে আরেক শ্রমিক জানান, বাসে পুটিং মারা শেষ। এখন ঘষাঘষির কাজ চলছে। এরপর রং করব। আশা করি ২৫ রোজার আগে বাসগুলো রাস্তায় নামাতে পারব।
লিটন নামের আরেক শ্রমিক জানান, পুরাতন বাস যেমন মেরামত চলছে তেমনি ইঞ্জিন পুরাতন কিন্তু বডি নতুন করে করা হচ্ছে এমন বাসও আছে। সবকিছু যদি ঠিক না থাকত তাহলে কি বাসমালিকরা কাজ করাতেন। হয়তো কাগজপত্র সব ঠিক আছে। আমরা কাজ করি টাকা পাই। এই তো চলছে। এসব নিয়ে ভাবার সময় কই। ঈদে যাত্রী টানতে পারলেই হলো বাস মালিকদের।
এদিকে লক্কড়-ঝক্কড় বাস চলাচলের কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি বাস মালিক গ্রুপের। আর সড়ক নিরাপদ রাখতে কঠোর অবস্থানের কথা জানায় পুলিশ।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, লক্কড়-ঝক্কড় বাস চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। লক্কড়-ঝক্কড় বাস আমরা নামতে দেব না। তবে প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে ২ হাজার বাস চলাচল করে। এসব নজরদারির আওতায় আনাও কঠিন।
তবে পুলিশ এ বিষয়ে কঠোর হবে সেটা আশা করি। আর কাগজপত্র যদি সব ঠিক থাকে তাহলে তো রাস্তায় লক্কড়-ঝক্কড় বাস থাকার কথা না। আমরা তো কঠোর আছি পুলিশকেও কঠোর হতে হবে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ কেন্দ্রে করে সড়কে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি। সড়ক নিরাপদ রাখতে লক্কড়-ঝক্কড় বাস নামাতে দেরি হবে না।