মাকে হারানোর ১৪ ঘণ্টার মধ্যে বাবাকেও হারালেন কনস্টেবল কামাল

মাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই ঢাকার কর্মস্থল থেকে টেকনাফের হ্নীলার বাড়িতে ফিরেছিলেন পুলিশ কনস্টেবল কামাল হোসেন। বাড়ি ফিরে স্বজনদের সঙ্গে মায়ের জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এলো আরও এক দুঃসংবাদ। মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেলেন তার বাবাও।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা আহমেদ হোসেনের স্ত্রী সোয়া বিবি (৮২) মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় কর্মরত ছেলে কামাল হোসেন ছুটে আসেন বাড়িতে।
তখন মায়ের নিথর দেহ বাড়ির উঠানে। স্বজনদের কান্না আর জানাজার প্রস্তুতির মধ্যেই মাকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর অপেক্ষায় ছিলেন কামাল। কিন্তু সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে হঠাৎ মারা যান তার ৯০ বছর বয়সী বাবা আহমেদ হোসেন।
স্বজনেরা জানান, স্ত্রী সোয়া বিবির মৃত্যুর পর শোকে ভেঙে পড়েছিলেন আহমেদ হোসেন। একপর্যায়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরে তারও মৃত্যু হয়।
কামাল হোসেন বলেন, আমার মা এক বছর ধরে অসুস্থ ছিলেন। বাবা সুস্থ ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বাবা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। মাকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই প্রায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাবাকেও হারালাম।
একজন সন্তান হিসেবে মা-বাবাকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই দুজনের জানাজার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে কামালকে। পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো তিনিও এখন যেন বাকরুদ্ধ। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে রঙ্গিখালীর পরিবেশ।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সোমবার মাগরিবের নামাজের পর সোয়া বিবি ও আহমেদ হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হবে।



