ছাত্রদল নেতাকে পেটালেন ছাত্রলীগ নেতা, ৪৮ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি
-b222e0-720x405.webp)
সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর ছাত্রদলের এক নেতার বাসায় ঢুকে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা কমিটির এক সহসভাপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই ছাত্রদল নেতা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত মারধরের ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
এর আগে, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্বনাথ পৌর শহরের টিএনটি রোড এলাকায় এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
আহত আবদুল মজিদ বকুল বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অভিযুক্ত শামীম আহমদ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সহসভাপতি।
বিশ্বনাথ পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম রেজা অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পোস্ট দেন। ওই পোস্টে বকুল মন্তব্য করায় ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম তার বাসায় গিয়ে তাকে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে আশপাশের নেতাকর্মীরা বকুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শামীম আহমদ জানান, বকুল ও ছাত্রদলের আরেক নেতা সম্প্রতি কামরুল নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে (মব) ৪ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান। বুধবার তারা আবার কামরুলের কাছে টাকা দাবি করেন। তিনি এতে বাধা দিলে বকুল তাকে মারতে আসেন। তখন তিনি পাল্টা আঘাত করেন।
এদিকে ঘটনার পর শামীমকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় স্থানীয় ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্বনাথ পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করে উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল এ আলটিমেটাম দেয়। তবে ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় মামলা বা গ্রেপ্তারের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের দাবি, বকুলকে মারধরের পর শামীম বিশ্বনাথ উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধরতে ভিড় করলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ হাবিবুর রহমান হাবিবকে আটক করে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, দুপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল নেতাকে মারধরের ঘটনায় হাবিবুর রহমান হাবিবকে আটক করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা ছিল। ওই মামলায় বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে পাঠানো হয়েছে।


