শেবাচিমে আগুন, ২ রোগীর মৃত্যুর খবর

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। আগুনের সময় স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃতরা হলেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর এলাকার বাসিন্দা কাজী আতাউর রহমান (৮০) ও বরিশাল সদরের বারৈজ্যের হাটখোলা এলাকার আবুল হোসেন (৬৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের স্টাফ ও ভর্তিরত রোগীরা জানান, মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের পঞ্চম তলার মেডিসিন ওয়ার্ডের একটি কর্নারে আগুন লাগে। যেখানে ওই ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য বিছানার ফোম, চাদর ও বালিশসহ প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল রাখা ছিল। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভবনটির বিভিন্ন তলায় থাকায় রোগী, রোগীর স্বজন, হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও চিকিৎসকসহ সবাই হুড়োহুড়ি শুরু করে দেন এবং যে যেভাবে পেরেছেন রোগীদের নিয়ে ভবনের বাহিরে সড়কে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগে স্থানীয়রা এবং হাসপাতালের স্টাফরা মিলে এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি।
এদিকে আগুনের ঘটনার সময় ভবন থেকে স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের মধ্যে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
মৃত কাজী আতাউর রহমানের ছেলের বউ জানান, ভবনের পঞ্চম তলায় অগ্নিকাণ্ডের সময় তার শ্বশুর কাজী আতাউর রহমান চতুর্থ তলায় ভর্তি ছিলেন। তার ইনহেলার ও অক্সিজেন প্রয়োজন হয় সর্বদা। কিন্তু আগুনের সময় তাকে অক্সিজেন ছাড়া নিচে নামানো হলে কিছুক্ষণ পরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অপরদিকে আতাউর রহমানের স্বজনরা জানান, অক্সিজেনের জন্য হাসপাতাল কম্পাউন্ডে থাকা একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছে থাকা অক্সিজেন চাইলেও সে তা দিতে অপরাগতা জানায়, ফলে সময়মতো অক্সিজেনের অভাবে কাজী আতাউর রহমানের মৃত্যু হয়।
অপরদিকে আবুল হোসেনের ছেলে জানান, তার বাবা অসুস্থ হয়ে গত কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ছিলেন, রাতে মা ও বোনকে বাবার কাছে রেখে বাড়িতে যান। আগুন লাগার খবরে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালে এসে বাবাকে মৃত্যু অবস্থায় দেখতে পাই।
যদিও এ দুজন রোগীর অবস্থা আগে থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ডের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।
অপরদিকে, আগুনের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভাণ্ডার) ডা. আবদুল মুনায়েম সাদ। তিনি বলেন, মেডিসিন ওয়ার্ডের কর্নারে একটি স্থানে অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়, তবে ওই ওয়ার্ডের মাত্র দুটি ইউনিটে রোগী ভর্তি ছিল বিধায় তাৎক্ষণিক নিরাপদে রোগীদের সেখান থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পুরো ভবনে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় আগুন লাগার বিষয়গুলো তাৎক্ষণিক খতিয়ে দেখা যায়নি, সেইসঙ্গে তদন্ত না করে এ বিষয়ে কিছু বলাও যাচ্ছে না। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত রেসপন্স করায় আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. নাজমুল আহসান জানান, ভবনটির নিচ তলা ও দোতলায় কোন ভর্তি রোগী থাকে না। মাত্র দুটি ইউনিটে আনুমানিক ১০০ জনের মতো রোগী ভর্তি ছিল। যাদের নিরাপদে সরিয়ে পুরাতন ভবনের অন্য জায়গাতে নেওয়া হয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আগুন নেভাতে গিয়ে একাধিক আনসার সদস্য ও আমাদের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল স্টেশনের অফিসার আবুজর গিফরী জানান, রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে শেবাচিম হাসপাতালে বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে এবং ৪০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে কিছু ফোম, বেডসিট ও বালিস থাকায় সেখানে আগুনে প্রচুর ধোয়ার সৃষ্টি হয়। আর ধোঁয়ার কারণে আগুন নেভাতে কিছুটা সময় লাগে। আগুন লাগার সঠিক কারণ নিশ্চিত করা যায়নি, তবে বিড়ি সিগারেট থেকেও আগুন লাগতে পারে, আবার শর্টসার্কিট থেকেও আগুন লাগতে পারে। তদন্ত করে এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।
তিনি বলেন, নামতে গিয়ে কোনো রোগীর মৃত্যুর খবর তাদের কাছে যেমন নেই, তেমনি হতাহতেরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।