Advertisement

স্কুলমাঠে পশুর হাট, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে বন্ধ পাঠদান

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
স্কুলমাঠে পশুর হাট, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে বন্ধ পাঠদান
বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে গরু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হেঁয়াকো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এখন কোরবানির পশুর হাট।

Advertisement

বুধবার (২০ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত গরু ও ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হন প্রধান শিক্ষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের মাঠে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা আছে শত শত গরু। মাঠের বিভিন্ন স্থানে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দর-কষাকষি। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে একের পর এক প্রবেশ করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। চারদিকে পশুর ডাক ও মানুষের কোলাহলে বিদ্যালয় এলাকা অস্থায়ী পশুর বাজারে পরিণত হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়ক ও মহাসড়কে পশুর হাট বসানোর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জনদুর্ভোগ ও যানজট এড়াতে রাস্তার ওপর কোনোভাবেই পশুর বাজার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হলেও কার্যত তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

বিদ্যালয়ের পিলারের সঙ্গে বাঁধা হয়েছে গরু। ছবি: এশিয়া পোস্ট
বিদ্যালয়ের পিলারের সঙ্গে বাঁধা হয়েছে গরু। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কিন্তু স্কুলমাঠের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর তিন-চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ করে অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল স্থানে গরুর হাট বসানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শিশুদের লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যালয় মাঠ থেকে গরুর হাট সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হেঁয়াকো বাজারের গরুর হাট সড়কের পাশে বসলেও এবার বিদ্যালয় মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াছমিনকে একাধিকবার ফোন করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সন্ধ্যা ৭টা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যালয় মাঠে শতাধিক গরু বাঁধা অবস্থায় থাকলেও বাজারের খাস কালেকশন সংগ্রহকারী স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল খায়ের মাঠে কোনো গরু তোলা হয়নি বলে অস্বীকার করেন। তার দাবি, একজন ক্রেতা ভুলবশত একটি গরু বেঁধেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রব বলেন, গত পরশু অনুষ্ঠিত উপজেলা সমন্বয় সভায় কোনো বিদ্যালয়ের মাঠে যেন গরুর হাট বসানো না হয়, সে বিষয়ে ইজারাদারদের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গেও কথা বলেছি।

স্কুল মাঠে পশুর হাট বসানোর বিষয়ে ইউএনও সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি।’