পদ্মার দখল নিয়ে কাকন-কালু বাহিনীর গোলাগুলি, আতঙ্ক নদীপাড়ে

কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের সময় শতাধিক গুলির শব্দ শোনা গেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে পদ্মা-গড়াই নদীর মোহনা এবং পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চর এলাকায় গোলাগুলি শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর মহানগর ট্যাকসংলগ্ন পদ্মা নদীর অপর পাড়ে ডিগ্রির চর এলাকায় স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে অবস্থান নেন কাকন বাহিনীর সদস্যরা। অন্যদিকে, পাবনার ঈশ্বরদীর ডিগ্রির চরের কলাবাগান এলাকায় অবস্থান নেন কালু বাহিনীর সদস্যরা। দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে নদী এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়ন জানান, কাকন বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে একটি ট্রলারে করে এসে গোলাগুলি শুরু করেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে আরও দুটি নৌকা এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। দুপুর ২টার পর থেকে কিছুক্ষণ পরপর গুলির শব্দ শোনা যায়। তার দাবি, এ পর্যন্ত শতাধিক গুলির শব্দ শুনেছেন।
গোলাগুলির ঘটনায় নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে ও স্থানীয় লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ বলেন, থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। কাকন বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলির কারণে আমরা আতঙ্কে আছি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মহানগর ট্যাকে নৌ পুলিশ অবস্থান করলেও নদীর অপর পাড়ে ডিগ্রির চর এলাকায় গোলাগুলি চলতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউদ্দিন বলেন, কারা গুলি করছে, তা জানতে পুলিশের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমাদের সদস্যদের পাঠিয়েছি। তাদের সঙ্গে ঈশ্বরদী থানার পুলিশও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে নতুন করে বড় কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। কলাবাগান পর্যন্ত নৌ পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নিয়েছিলেন। তারা নতুন করে গোলাগুলির শব্দ পাননি।

