অন্তঃসত্ত্বার ওপর হামলার অভিযোগ, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটের চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার পেটে লাথি মারার পর তীব্র ব্যথা শুরু হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিনি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ ওই গ্রামের বাসিন্দা ওলিউল্লাহর স্ত্রী। আগামী ১৫ এপ্রিল তার স্বাভাবিক প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ ওলিউল্লাহর ভাগনের হাঁস আংগুর মিয়ার ডোবায় নামার কারণে পানি ঘোলা হওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ওই সময় হাঁস লুটের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় আংগুর মিয়ার পক্ষ থেকে মামলা করে ওলিউল্লাহ ও তার স্বজনদের আসামি করা হয়। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার রাতে প্রথমে পুলিশ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কাউকে না পেয়ে চলে যায়। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আংগুর মিয়াসহ ১৫-২০ জনের একটি দল বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়।
রোকেয়ার বড় বোন রুয়েলা আক্তার জানান, হামলার পরপরই তার বোনের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। গভীর রাতে যানবাহন না পাওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে ভোরে স্থানীয় এক ধাত্রীকে এনে বাড়িতেই প্রসব করানো হয়। পরে মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন এবং রোকেয়াকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে গৃহবধূর স্বামী ওলিউল্লাহ থানায় লিখিত অভিযোগে আংগুর মিয়া, রফিকুল ইসলাম, মরিয়ম আক্তার, তরিকুল মিয়া, আনসার মিয়া ও মজিবর মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছেন।
অভিযুক্ত মরিয়ম আক্তার জানান, ঘটনার দিন তিনি শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। সম্প্রতি তার বিয়ে হওয়ায় এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেন। তিনি বলেন যারা অভিযোগ করেছে তারা আমাদের লোকজনকে এর আগে আহত করেছে সে বিষয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। সেই ঘটনাকে আড়াল করার জন্য তারা এখন নাটক সাজিয়েছে।
আংগুর মিয়া দাবি করেন, আগের ঘটনার জেরে তাকে ফাঁসাতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশের ভয়ে বাড়ির বাইরে আছেন বলেও জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন, ঘটনাটি নিয়ে গ্রামে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। উভয়পক্ষই নিজেদের পক্ষে দাবি করছে। তবে অভিযোগে উল্লিখিত মরিয়ম নামের মেয়েটির সদ্য বিয়ে হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। আংগুর মিয়ার লোকজন দাবি করছে ঘটনার দিন মরিয়ম শ্বশুরবাড়ি ছিল। প্রকৃত ঘটনা তদন্তের মাধ্যমেই বের হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, খবর পেয়ে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।