বরগুনায় চর্মরোগী বেড়েছে ১৫ থেকে ৫৩, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন

বরগুনার তালতলীতে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর আশপাশের এলাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের কয়লার ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে দূষণ বাড়ার পাশাপাশি চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে। তবে এসব রোগ বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বরগুনার সিভিল সার্জন।
বরগুনার তালতলী উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ জন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ জনে। একই সময়ে পানিবাহিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৭৯ থেকে বেড়ে ৬৭২ জন হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে চর্মরোগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা তিন গুণের বেশি এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রসংলগ্ন নতুনপাড়া এলাকায় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এক জরিপে ২১ জন নারীর মধ্যে ১৭ জনের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

বরগুনার নিশানবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা সালেহা বেগমের শরীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চর্মরোগ। অসহনীয় চুলকানি ও যন্ত্রণায় স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে তার।
সালেহা বেগমের অভিযোগ, এলাকায় কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর থেকেই তার শরীরে অস্বাভাবিকভাবে চুলকানি শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা গুরুতর চর্মরোগে রূপ নেয়। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
শুধু সালেহা বেগম নন, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া এলাকার আরও অনেক বাসিন্দা নানা ধরনের চর্মরোগে ভুগছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
২০২২ সালে এলাকায় ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রটি চালুর পর থেকেই এলাকায় চর্মরোগের প্রকোপ বেড়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের শরীরে চুলকানি, ক্ষত ও ফুসকুড়িসহ নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে বলেও তাদের দাবি। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন স্থানীয়রা।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়ক আরিফুর রহমান বলেন, তালতলীর কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রমের কারণে পরিবেশে নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে আশপাশের বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, নিশানবাড়িয়া এলাকায় চর্মরোগের প্রকোপ বাড়লেও এর সঙ্গে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে গবেষণা প্রয়োজন।
