logo
Advertisement

রাজশাহী/প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত ১৭০ শিক্ষার্থী

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাজশাহী
প্রধান শিক্ষকের গাফিলতিতে উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত ১৭০ শিক্ষার্থী
ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭২টির শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পেলেও মহনগর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী এ সুযোগ পায়নি।

Advertisement

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম নেসার দায়িত্বে অবহেলাকে দায়ী করছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণেই শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতির দায়ভার প্রধান শিক্ষককেই বহন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিভাবকদের দাবি, প্রধান শিক্ষক মরিয়ম নেসা স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে পাঠদান, শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে।

তারা জানান, গত ২৯ জুলাই রাজশাহী-৫ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ১৩৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মেধাবৃত্তি বিতরণ করেন। ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় চারঘাট উপজেলার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৮২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ৫৪ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুল এবং ৭২ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। এ ছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন ট্যালেন্টপুল ও চারজন সাধারণ বৃত্তি পায়। তবে মহনগর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী ওই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ারই সুযোগ পায়নি।

অভিভাবকরা জানান, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের উপবৃত্তির চাহিদাপত্র যথাসময়ে না পাঠানোর কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের ১৭০ জন শিক্ষার্থীর সবাই সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মরিয়ম নেসা বলেন, উপবৃত্তির বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়কে সময়মতো জানানো হয়নি। পরে জানতে পারলেও ততক্ষণে তথ্য পাঠানোর সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। নিজের বিরুদ্ধে আনা অন্য অনিয়মের অভিযোগও অসত্য বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) রুনা খাতুন বলেন, প্রধান শিক্ষকের এমন দাবি সঠিক নয়। শিক্ষা অফিসের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সব প্রধান শিক্ষক যুক্ত রয়েছেন এবং সব নির্দেশনা সেখানেই দেওয়া হয়। ৭৩টির মধ্যে ৭২টি বিদ্যালয় সময়মতো তথ্য দিতে পারলে একটি বিদ্যালয় কেন পারল না—তা তদন্তের বিষয়। প্রাথমিকভাবে প্রধান শিক্ষকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

চারঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতিমা খাতুন বলেন, মহনগর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়টি নজরে আসার পর সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা খাতুনকে সরেজমিনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় :