আদালতে মায়ের জিম্মায় পাওয়ার পরই আবারও মেয়েকে অপহরণ

নোয়াখালীতে আদালতের নির্দেশে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার পর আদালতের সামনের এলাকা থেকে জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা (১২) নামের এক কিশোরীকে আবারও অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওইসময় অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীর মা, চাচা ও দাদাকে মারধর করে জখম করে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন অপহৃত কিশোরীর মা বিবি আয়েশা। এসময় তার পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিবি আয়েশা অভিযোগ করে বলেন, জান্নাতুল মাওয়া মুক্তা কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের করমবক্স আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। চলতি বছরের ১৬ জুলাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রধান অভিযুক্ত রনি তার লোকজন নিয়ে মুক্তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় নারী ও শিশু আদালতে মামলা দায়েরের পর গত ১৪ আগস্ট পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। আদালতের নির্দেশে তাকে সেইফ হোমে রাখা হয়েছিল।
তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত তার মেয়েকে তার জিম্মায় দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে মেয়েকে নিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় কোর্টসংলগ্ন প্রেসক্লাব রোড এলাকায় রনি, আলা উদ্দিনসহ ২০ থেকে ২৫ জন যুবক তাদের পথরোধ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা মুক্তার মা, চাচা ও দাদাকে মারধর করে অস্ত্রে মুখে জিম্মি করে মুক্তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকে মেয়ের কোনো খবর পাচ্ছে না পরিবারের লোকজন।
বিবি আয়েশা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে মুক্তাকে উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুদৃষ্টি কামনা ও সন্ত্রাসী রনিসহ তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত রনির এক ফুফু মুক্তাদের বাড়িতে থাকে। তার সূত্রধরে কবিরহাট ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের মকবুল চৌধুরী হাটের তাদের বাড়ি থেকে রনি এ বাড়িতে প্রায় আসা-যাওয়া করতো। একপর্যায়ে রনি বিভিন্নভাবে মুক্তাকে ইভটিজিং করতো। এসব বিষয়ে তার পরিবারে জানানোর পর সে মুক্তাকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করে এবং দুই দফা অপহরণ করে।


