logo

কাশফুলের শুভ্রতায় সেজেছে বরগুনার বিসিক, বিকেল হলেই বাড়ে ভিড়

কাশফুলের শুভ্রতায় সেজেছে বরগুনার বিসিক, বিকেল হলেই বাড়ে ভিড়
বরগুনা বিসিক শিল্পনগরীর শুভ্র কাশবন ঘেঁষে মুঠোফোনে সেলফি তুলছেন দুই দর্শনার্থী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রতিবছর শরৎ এলেই সাদা কাশফুলে সেজে ওঠে বরগুনার বিসিক শিল্পনগরী। বরগুনা পৌর শহর থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বের এ এলাকায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। নীল আকাশ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনে এনে দেয় প্রশান্তি। তাই প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু করে বিসিক শিল্পনগরী। প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকলেই সড়কের দুই পাশে দেখা যায় বিস্তীর্ণ মাঠ। সেখানেই ফুটেছে সারি সারি কাশফুল।

বিসিক শিল্পনগরীতে এসে দর্শনার্থীরা প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ আবার শুভ্র কাশফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে সেলফি তুলে সময় কাটাচ্ছেন। শহরে বিনোদনকেন্দ্রের অভাব থাকায় পরিবারের সঙ্গে আসা শিশুরাও উপভোগ করছে কাশফুলের সৌন্দর্য। শহরের কাছাকাছি তেমন কোনো পর্যটনকেন্দ্র না থাকায় প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে বিসিকের এ এলাকাটি হয়ে ওঠে স্থানীয় মানুষের অন্যতম আকর্ষণ।

বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে বিসিক শিল্পনগরীতে ঘুরতে এসেছেন স্কুলশিক্ষক নাদিরা বারেক দিবা। তিনি বলেন, শরতের পড়ন্ত বেলায় কাশফুলের এমন সুন্দর পরিবেশে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগছে। সারাদিন স্কুলে পাঠদানের পর বান্ধবী ও মেয়েকে নিয়ে এখানে এসে ঘোরাঘুরি করছি। চারপাশের শুভ্র কাশফুল, নীল আকাশের মেঘের ভেলা আর নির্মল বাতাসে কিছুটা সময় কাটালে সারাদিনের ক্লান্তিও দূর হয়ে যায়। বরগুনা পৌর শহরের কাছাকাছি এমন একটি জায়গা থাকায় অবসর সময়ে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসার সুযোগ হয়েছে।

একমাত্র মেয়েকে নিয়ে পড়ন্ত বিকেলে কাশফুল দেখতে বিসিক শিল্পনগরীতে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ইশরাত জাহান রুমি।

তিনি বলেন, প্রতিবছর এখানে ঘুরতে আসি। সময় পেলেই মেয়ে মোবাইল নিয়ে বসে থাকে। তাই মেয়েকে নিয়ে এই সুন্দর পরিবেশে ঘুরতে এসেছি। কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রকৃতির সঙ্গে মেয়েকে নিয়ে হারিয়ে যেতে চাই।

বরগুনা জেলা পর্যটন উদ্যোক্তা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, বরগুনা শহরে বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। শরৎ এলে বিসিক এলাকায় কাশফুল ফোটে। তখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের ভিড় বাড়ে, কাশবন মুখর হয়ে ওঠে।