ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল বাবার

ঝালকাঠির নলছিটিতে প্রতিপক্ষের হামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্কাস খান (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছেলে জসিম খান (৩২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত আক্কাস খানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোবিন্দপুর গ্রামের আক্কাস খানের ছেলে জসিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী সজল খানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার বিকেলে বাড়ির সামনের সড়কে জসিমকে একা পেয়ে সজল খান, তার বাবা সেলিম খান ও ভাই শফিক খানসহ কয়েকজন মিলে হামলা চালান। এ সময় জসিমের চিৎকার শুনে তার বাবা আক্কাস খান ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে সজোরে আঘাত করেন। এতে বাবা ও ছেলে দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে আক্কাস খানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। কিন্তু ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। অন্যদিকে গুরুতর আহত জসিম খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে স্বজনরা জানান, মাথায় গুরুতর আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই আক্কাস খানের মৃত্যু হয়েছে।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছে; তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
.png)

