logo
Advertisement
ফরিদপুর মেডিকেলে চরম ভোগান্তি

হাসপাতাল নাকি অটোস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
ফরিদপুর, ঢাকা
হাসপাতাল নাকি অটোস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ কিংবা বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনের ফাঁকা জায়গা—কোথাও সারিবদ্ধভাবে, আবার কোথাও যত্রতত্র পার্কিং করে রাখা হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অ্যাম্বুলেন্স। দিন-রাত গাড়ির কর্কশ হর্ন আর চালকদের অনবরত হাঁকডাকে এটি যেন কোনো হাসপাতাল নয়, রূপ নিয়েছে এক ব্যস্ততম বাসস্ট্যান্ডে। এমনই অনিয়ম ও চরম অব্যবস্থাপনায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ও পুরোনো ভবনের নিচের ফাঁকা জায়গার বড় একটি অংশ বিভিন্ন যানবাহনের দখলে রয়েছে। রোগী নামানো বা ওঠানোর পরও অনেক চালক দীর্ঘসময় হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করছেন। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী কিংবা স্বজনদের সম্ভাব্য যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা সেখানে অপেক্ষা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে জরুরি বিভাগের সামনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সংকটাপন্ন রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশের সময় সামনে থাকা রিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য যানবাহনের কারণে অনেক সময় যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে রোগীকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে স্বজনদের। এমনকি যানবাহনের ভিড় এড়িয়ে কখনো কখনো স্বজনদের স্ট্রেচারে করে বা কোলে তুলে রোগীকে হাসপাতালের ভেতরে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এখানে এসে একটু শান্তিতে বিশ্রাম নেব, সেটাও পারছি না। দিন-রাত গাড়ির হর্ন বাজে, চালকেরা চিৎকার করে ডাকাডাকি করেন। এতে মাথা ধরে যায়, বুক আরও ধড়ফড় করে। হাসপাতাল নাকি বাসস্ট্যান্ড—বোঝার উপায় নেই।’

বহির্বিভাগের সামনে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ইজিবাইক। ছবি : এশিয়া পোস্ট
বহির্বিভাগের সামনে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ইজিবাইক। ছবি : এশিয়া পোস্ট

আরেক রোগীর স্বজন কাকলি চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের রোগীকে নিয়ে যখন হাসপাতালে আসি, তখন প্রথমেই গাড়ির জটের মুখে পড়তে হয়। রোগী যদি গুরুতর হয়, তখন কয়েক মিনিটও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময়। অথচ হাসপাতালের গেট থেকে জরুরি বিভাগ পর্যন্ত যেতে যদি গাড়ির ভিড় সামলাতে হয়, তাহলে এর চেয়ে কষ্টদায়ক আর কী হতে পারে?’

হাসপাতাল চত্বরের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদেরও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য বলেন, ‘রোগী নিয়ে আসার পর অনেক চালক গাড়ি নিয়ে আর বের হতে চান না। হাসপাতাল থেকে বের হওয়া রোগী বা স্বজনদের যাত্রী হিসেবে পাওয়ার আশায় তারা চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকেন। গাড়ি সরাতে বললে অনেক সময় বাগবিতণ্ডা হয়। সীমিত জনবল দিয়ে এতগুলো যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।’

পাকিং নিষিদ্ধ জায়গায়ও রাখা হয়েছে মোটরসাইকেল। ছবি : এশিয়া পোস্ট
পাকিং নিষিদ্ধ জায়গায়ও রাখা হয়েছে মোটরসাইকেল। ছবি : এশিয়া পোস্ট

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের সীমানা ঘেঁষে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা থাকার পরও অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের মূল চত্বরেই অবস্থান করছে। এতে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সড়ক ও প্রবেশপথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

রোগী ও স্বজনদের প্রশ্ন, যেখানে কয়েক মিনিটের দেরিও একজন সংকটাপন্ন রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে হাসপাতালের জরুরি প্রবেশপথ যদি যানবাহনের দখলে থাকে, তাহলে জরুরি মুহূর্তে দায় নেবে কে? তারা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে হাসপাতাল চত্বরকে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের দখলমুক্ত করে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তব্য জানতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মানস কৃষ্ণ কুন্ডু এশিয়া পোস্টকে বলেন, হাসপাতালের মাসিক আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় আমরা বরাবরের মতোই এসব অনিয়মের বিষয় তুলে ধরি এবং মাঝেমধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। যেহেতু আবার নতুন করে হাসপাতাল চত্বরে ইজিবাইক ও অন্য যানবাহনের বেআইনি পার্কিং শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।