বোমা ঘাটে রেখেই ১০ বছর ধরে চলছিল কাপড় ধোয়ার কাজ

কক্সবাজারের রামুতে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি অবিস্ফোরিত বোমা। তবে ওই বোমা ঘাটে রেখে গত ১০ বছর ধরে চলছিল কাপড় ধোয়ার কাজ।
পুলিশ বলছে, রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকায় বোমাটি পাওয়া যায়। মূলত এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা। যা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বোমাসদৃশ বস্তুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একটি বড়ো বোমা পাওয়া গেছে। মূলত বোমাটি একটি পুকুরে ছিল। যা ১০ বছর আগে স্থানীয় কেউ পুকুর থেকে তুলে পাড়ে রেখেছিল। ওই বোমাটি ঘাটে রেখে গত ১০ বছর ধরে স্থানীয়রা কাপড় ধোয়ার কাজও করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বোমার বিষয়টি পুলিশকে জানালে শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এরপর বোমাটি নিরাপদ স্থানে রেখে চারপাশে সংরক্ষিত করার পাশাপাশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে যায় এবং বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে রামুর ইতিহাস গবেষক আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বোমাসদৃশ বস্তুটির দুটি ছবি শেয়ার করেন।
ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! এই বোমাটার ওপর নাকি অনেকদিন যাবত মানুষ কাপড় কাচার কাজ করত! এটাতে এক্সপ্লোসিভ আছে কি না পরীক্ষা করা দরকার। না থাকলে সংরক্ষণ করা উচিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মারক হিসেবে। এটাতো রামুর ইতিহাসের অংশ।’
এ বিষয়ে ইতিহাস গবেষক শিরূপন বড়ুয়া জানান, বোমাসদৃশ বস্তুটির বিষয় তিনি অনেক আগেই জেনেছিলেন। নিজের আগ্রহ থেকে বৃহস্পতিবার তিনি এবং শিক্ষক সুমথ বড়ুয়া সেটি দেখতে গিয়েছিলেন। তার ধারণা, হয়তো এটি জাপানের তৈরি এবং বর্তমানে এটি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয়দের মতো তিনিও এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা বলে ধারণা করেছেন। বস্তুটির আকার প্রস্থ গ্যাসের সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্য আরও বেশি।