ওসমানী বিমানবন্দর/পেশাগত পরিচয়ের কারণে ওমরাহ যাত্রীকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ

সব বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কেবল পেশাগত পরিচয়ের কারণে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক ওমরাহ যাত্রীকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ওই যুবককে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ অপদস্থ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
তিন দিন আগের ঘটনা হলেও শুক্রবার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যাখ্যা দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী।
তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপমুখী অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে নেওয়া বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম সুমন আহমদ। তিনি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মোল্লাপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে। গত ১৯ আগস্ট ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ওসমানী বিমানবন্দরে যান তিনি।
সুমনের অভিযোগ, অটোরিকশাচালক হওয়ায় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে নানাভাবে অপমান করে এবং পাসপোর্টে ক্ষতিকর সিল মারার হুমকি দিয়ে বের করে দেয়।
তিনি জানান, একজন আমেরিকা প্রবাসী তার ওমরাহ পালনের সমস্ত ব্যয়ভার বহন করেছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তিনি মানসিক আঘাত পেয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকে পোস্ট দেন। সিএনজি-অটোরিকশাচালক হওয়ায় ওমরাহ করতে দেওয়া হয়নি সুমনকে—এমন তথ্য উল্লেখ করে সুমনের বক্তব্যসহ স্ট্যাটাস দেন অনেকে।
বিষয়টি নজরে আসার পর শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে উদ্বেগ জানান সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি লেখেন, আমার এলাকার এক যুবক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সিলেট বিমানবন্দর থেকে ওমরাহ করতে যেতে পারেননি। সামর্থ্য না থাকা এবং সিএনজিচালক হওয়ার কারণে তাকে অপমান করা হয়েছে। ওমরাহ করা মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার। ঘটনাটি সত্যি হলে তা অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে জনসম্মুখে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এমপি ইমরান আহমদের এই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মনিুর জানান, কাউকে অপদস্থ করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না। সুমন যে পোশাকে এসেছিলেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বেড়াতে যাচ্ছেন। তার মধ্যে ওমরাহ যাত্রীর মতো কোনো আলামত বা প্রস্তুতি ছিল না, যা দেখে তাদের সন্দেহ হয়।
এসপি মনিুর আরও জানান, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টাকালে দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ সিলেটের তরুণ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ওসমানী বিমানবন্দরে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনেক তরুণ ওমরাহ ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে সেখান থেকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও মানবপাচার রোধ করতেই এ ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।



