logo

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ, ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবক সেই সেন্টুর বাড়িতে জেলা প্রশাসক

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ, ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবক সেই সেন্টুর বাড়িতে জেলা প্রশাসক
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবক সেন্টু কুমার হাজংয়ের ধানক্ষেত ঘুরে দেখছেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

চলতি মাসের ১৭ অক্টোবর এশিয়া পোস্টে ‘নিজ জমিতে গবেষণা করে ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন, এখনো মেলেনি স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি শেরপুর জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর কৃষক সেন্টু কুমার হাজংয়ের বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তিনি জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামে যান। সেখানে সেন্টু কুমার হাজংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ, অভিজ্ঞতা ও কৃষিক্ষেত্রে অবদানের খোঁজখবর নেন।

এ সময় নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জেলার তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা এবং সেগুলোকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরার মাধ্যমে শেরপুরের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও কৃষির অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেন্টু কুমার হাজংয়ের মতো উদ্ভাবকদের হাত ধরে শেরপুরের কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশের কৃষির অপার সম্ভাবনা বিকশিত হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, সেন্টু কুমার হাজংয়ের পথচলা প্রমাণ করে সীমিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কখনোই মানুষের সম্ভাবনার চূড়ান্ত সীমা হতে পারে না। মেধা, শ্রম, অধ্যবসায় ও নিরন্তর প্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন মানুষও অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারেন। সমাজের এমন নীরব কর্মবীর ও তৃণমূলের উদ্ভাবকেরাই আমাদের প্রকৃত সম্পদ। তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, কর্মনিষ্ঠা ও সৃজনশীলতাকে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে পারলে কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নেই কোনো গবেষণাগার, নেই আধুনিক যন্ত্রপাতি কিংবা কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি জরাজীর্ণ ঘরে থেকে নিজের ১২ কাঠা আবাদি জমিকে গবেষণাগার বানিয়ে ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে যাচ্ছেন কৃষক সেন্টু চন্দ্র হাজং (৫৫)। দীর্ঘ ২১ বছরের প্রচেষ্টায় তিনি এখন পর্যন্ত ২৫টি নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এখনো নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি এবং প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও দুই শতাধিক জাত। তাঁর উদ্ভাবিত ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় শত শত কৃষক। ফলে বাজারেও এসব ধানের চাহিদা বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সেন্টু হাজংয়ের এই দীর্ঘদিনের গবেষণার বিষয়ে অবগত থাকলেও এখনো তার ভাগ্যে মেলেনি কোনো জাতীয় স্বীকৃতি।