অতিরিক্ত ভাড়া ও বাস সংকটে হেঁটেই গন্তব্যে ছুটছেন মানুষ

ময়মনসিংহে ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকট। নগরীর ব্রিজ মোড় (চীন মৈত্রী সেতু) এলাকায় সড়কে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অনেক পরিবহন থেকে আদায় করা হচ্ছে স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাস না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে অপেক্ষা করছেন। বাসের সংখ্যা কম থাকায় যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে হুড়োহুড়ি ও বিশৃঙ্খলা। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। কেউ কেউ ট্রাক, পিকআপ কিংবা মাহিন্দ্রায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অসাধু পরিবহনের চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা থাকলেও তা অনেক ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না।
আনোয়ার হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, আজ সেটা ৫৫০ থেকে ৮৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এত টাকা দিয়েও সিট পাওয়া যাচ্ছে না। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারিনি।
একই অভিযোগ করেন জেলার হালুয়াঘাটগামী এনজিও কর্মী খায়রুল বাশার। তিনি বলেন, একঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে সিট পাইনি। তাই গাড়িতে উঠিনি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাসায় যেতে চাইলেও অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় হেঁটেই নগরীর শম্ভুগঞ্জ পর্যন্ত যাব। এরপর সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ট্রাকে উঠে গন্তব্যে যাব।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক বাস বিভিন্ন রুটে আটকে থাকায় নির্ধারিত সময়ে ট্রিপ দিতে পারছে না। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন, বাড়তি ভাড়া আদায় না করতে চালকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করার প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সড়ক-মহাসড়কে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
