Advertisement

মতলব উত্তরের ১৬ দপ্তরে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে প্রশাসন

আল-আমিন ভূঁইয়া, চাঁদপুর
মতলব উত্তরের ১৬ দপ্তরে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে চলছে প্রশাসন
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ ভবন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সেবা নিতে এসে দূর-দূরান্তের মানুষ শূন্য টেবিল দেখেই ফিরে যান— এটাই এখন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের নিয়মিত চিত্র। এ চিত্র এক বা দুই দপ্তরের নয়, উপজেলার ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরেই এখন বিরাজ করছে অচলাবস্থা।

Advertisement

কাগজে-কলমে প্রশাসন চললেও বাস্তব চিত্র একদম ভিন্ন। সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৎস্য, মাধ্যমিক শিক্ষা, পিআইও, সমাজসেবা, মহিলাবিষয়ক ও আইসিটি কর্মকর্তার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ১৬টি টেবিলেই আজ কোনো স্থায়ী সেবা প্রদানকারী নেই। পাশের উপজেলার কর্মকর্তারা ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। কিন্তু সপ্তাহে মাত্র দু-এক দিনের এই ধার করা উপস্থিতির কারণে দৈনন্দিন দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছেও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ না হওয়ার হতাশা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

প্রশাসনের এই শূন্যতার আঁচ লেগেছে এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও। উপজেলায় ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতেই নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। ভারপ্রাপ্তদের কাঁধে ভর দিয়ে কোনোরকমে চলছে স্কুলের পাঠদান। ১১টি উচ্চবিদ্যালয় ও একমাত্র সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষকের চেয়ার শূন্য। ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজেও নেই কোনো অধ্যক্ষ।

আইনশৃঙ্খলার দিক থেকেও চিত্রটি আশঙ্কাজনক। থানায় ওসির (তদন্ত) পদ খালি। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ছেংগারচর পৌরসভায় শূন্য পদের সংখ্যা প্রায় ৯৩ শতাংশ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে উপজেলা পরিষদে এসে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায় না। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার উপস্থিতির দিন না জানায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষকে একাধিকবার উপজেলা পরিষদে আসতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রধান শিক্ষকবিহীন এতগুলো বিদ্যালয় পরিচালনা করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদানসহ বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করছেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন না, তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় করেন। দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাব পড়ে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকা বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, শূন্য পদের সার্বিক বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের দিয়ে জরুরি কাজ সচল রাখার চেষ্টা চলছে, যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমানো যায়।

তবে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কতটুকু কমবে, সেই প্রশ্ন এখন মতলব উত্তরের সাধারণ মানুষের মনে।