logo
Advertisement

৫ বছর আটকে আছে ঝিনাইদহ পৌর সুপারমার্কেটের নির্মাণ কাজ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ,ঝিনাইদহ
৫ বছর আটকে আছে ঝিনাইদহ পৌর সুপারমার্কেটের নির্মাণ কাজ
বন্ধ থাকা ঝিনাইদহ পৌর সুপারমার্কেটের নির্মাণ কাজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঝিনাইদহ শহরের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আনতে এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণ প্রকল্পটি সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা বিপুল নির্মাণসামগ্রী মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক।

Advertisement

শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৬৭ শতক জমির ওপর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)-এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনায় ছিল আধুনিক দোকানপাটের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা কর্নার, উদ্যোক্তা কর্নার, কিডস জোন, মিনি আইটি পার্ক, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার এবং আধুনিক পার্কিং সুবিধাসহ নানা নাগরিক সেবা।

তবে নির্মাণকাজ শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই প্রকল্পটি আইনি জটিলতায় পড়ে। মার্কেটটির নির্মাণস্থলে আগে একটি শিশু পার্ক ছিল বলে পরিবেশবাদী সংগঠন বেলা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরপর ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হলেও নির্মাণকাজ আর শুরু হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ভবনের চারপাশ আগাছায় ভরে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা লোহার রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীতে মরিচা ধরেছে। দীর্ঘদিন রোদ-বৃষ্টি ও পানির সংস্পর্শে থাকায় এসব সামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। আধুনিক পরিবেশে শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, এই মার্কেট চালু হলে ঝিনাইদহের ব্যবসার চিত্র বদলে যেত। অথচ এখন সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন।

শহরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, কোটি টাকার সরকারি স্থাপনা নষ্ট হতে দেখছি। নির্মাণসামগ্রী মরিচা ধরে যাচ্ছে, বেজমেন্টে পানি জমে মাছ চাষ হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

সুজনের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি বিপ্লব এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নও জড়িয়ে আছে। দ্রুত আইনি জটিলতার নিষ্পত্তি করে কাজ পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় এশিয়া পোস্টকে বলেন, আদালতে চলমান মামলার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার নিয়োজিত আইনজীবীরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরই প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিষয় :