১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মিথ্যা, দাবি সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গাজীর বাজার ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার সাবেক ইনচার্জ মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। তার দাবি, অভিযোগটি মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত। ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের অডিটে ওই শাখায় মোট ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার থ্রি স্টার হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাসুম বিল্লাহ।
এর আগে একই দিন সকালে ইসলামী ব্যাংকের কালীগঞ্জ শাখার সামনে গাজীর বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কয়েকজন গ্রাহক তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুম বিল্লাহ বলেন, মানববন্ধনে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি কখনো ১ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেননি এবং এ ধরনের কোনো অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতিও দেননি। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৭ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের একটি অডিট দল গাজীর বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় অডিট করে।
মাসুম বিল্লাহর দাবি, ওই অডিটে মোট ৩৬ লাখ ৮১ হাজার টাকার অনিয়মের বিষয় উঠে আসে। এর মধ্যে ৩১ লাখ ৭০ হাজার ২০০ টাকার জন্য এজেন্ট মালিক আমিরুল ইসলাম এবং ৫ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকার বিষয়ে তাকে দায়ী করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাসুম বিল্লাহ বলেন, অডিট প্রতিবেদনে তার ওপর যে ৫ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকার দায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি তা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের পরিশোধ করেছেন। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অডিট প্রতিবেদনে যে পরিমাণ অর্থের অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে মানববন্ধনে প্রচার করা প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কোনো মিল নেই। তাই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রচার করে সামাজিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুম বিল্লাহর পরিবারের সদস্য তার চাচা নুরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান মনা, ইকবাল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
